মেঘনার তীব্র স্রোতের তোড়ে ভোলার নবনির্মিত ইলিশা ফেরিঘাট সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে গেছে। এর ফলে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়ে গেছে ভোলা-লক্ষ্মীপুর রুটের ফেরি চলাচল।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, সোমবার ভোরে মেঘনার তীব্র স্রোতে পানির আঘাতে ফেরিঘাটের এ্যাপোচ ও সড়কটি সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে গেছে। বাংলাদেশ অভ্যান্তরীণ নৌপরিহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) কর্মীরা ফেরির পল্টুনটিকে লোহার দড়িতে টেনে অন্যস্থানে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন।

এদিকে আসন্ন ঈদে ঘরমুখো মানুষদের বিড়ম্বনা থেকে রক্ষা করতে ঈদের আগেই ফেরিঘাট পুনর্নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন ভোলা স্বার্থরক্ষা উন্নয়ন কমিটির নেতারা।

ভোলা স্বার্থরক্ষা উন্নয়ন কমিটির সভাপতি অমিতাভ অপু জানান, ঈদে সাধারণ মানুষের ভোগান্তির কথা চিন্তা করে কর্তৃপক্ষের কাছে ফেরিঘাটটি আবার নির্মাণের দাবি জানানো হয়েছে।

অন্যদিকে মেঘনার পানি প্রবেশ করায় ফেরিঘাটের আশপাশের প্রায় শতাধিক বসতবাড়ি সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন বাড়ির মালিকরা।

ভাঙনকবলিত বসতবাড়ির মালিক আবুল কাসেম, হাফছা বেগম, আলী মিয়াসহ একাধিক ব্যক্তি জানান, মেঘনার ভাঙনের তীব্রতা বেশি থাকায় জিওটিউব ব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধ করার জন্য চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয় পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। ফলে তারা বসতবাড়ি অন্যত্র সরিয়ে রাস্তার পাশে আশ্রয় নিয়েছেন।

ইলশা ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান ইয়ানুর রহমান দ্য রিপোর্টকে জানান, ভাঙন রোধ করার জন্য বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ তিন দফা এলাকা পরির্দশন করে নতুন প্রযুক্তির জিও টিউব ব্যাগ ফেলার নির্দেশ দেন পাউবোকে।

বিআইডব্লিউটিএ’র নির্বাহী প্রকৌশলী শাহ নেওয়াজ কবির জানান, গত জুলাই মাসের শেষেরদিকে প্রথম দফা ভাঙনের কারণে পুরাতন ঘাটে ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে ৩০ লাখ টাকা ব্যয় করে এক কিলোমিটার দূরে এই নতুন ঘাট নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন্তু সোমবার ভোরে নতুন ঘাটটিও মেঘনার ভাঙনে সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে যাওয়ায় অনির্দিষ্টকালের জন্য ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

তবে ঈদের আগেই নতুন ঘাট নির্মাণ করা হবে বলে জানান তিনি।

জেআই