কৃষ্ণা রানী চৌধুরী। বিআইডব্লিইটিএ-এর সহকারী হিসাব ব্যবস্থাপক। অফিস থেকে বেরিয়ে রাস্তা পার হয়ে ব্যাংকে যাচ্ছিলেন, টাকা তুলতে। হাঁটছিলেন ফুটপাত দিয়ে। যে পথটুকু পথচারীদের জন্য নির্ধারিত সে পথেই। ট্রাস্ট পরিবহনের একটি বাস হঠাৎ ওঠে যায় ফুটপাতে। বেপরোয়া গতির ধাক্কা। বাসের চাকায় থেতলে যায় কৃষ্ণা রানীর বাঁ পা।

অথচ কিছুক্ষণ আগেও যে মানুষটি অফিস কলিগদের সঙ্গে হেঁটে কথা বলেছেন, আজ তিনি পঙ্গু। জীবন ঝুঁকি নিয়ে হাসপাতালে লড়ছেন। কাতরাচ্ছেন।

এর আগে গত এপ্রিলেও এই বাংলামটরের কাছাকাছি দুই বাসের রেশারেশিতে রাজীব নামে একজনের হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল। পরে জীবনযুদ্ধে হার মেনেছে রাজীব।

কিন্তু এত কিছুর পরও বোধশূণ্য এই গাড়ি চালকরা, পরিবহন মালিকরা আর এই সেক্টরে যুক্ত সিন্ডিকেট। বছরকে বছর আমরা যাদি পরিসংখ্যান দেখি, দুনিয়ার বড় বড় যুদ্ধেও এত মানুষ নিহত হয়না। অথচ বাংলাদেশে প্রতিবছর ব্যাপক হারে মানুষ প্রাণ দেয় বেপরোয়া গাড়ি চালাবার জন্য।

প্রশ্ন আসে, এ দায় কার? নিরাপদ সড়ক কি নামেই? স্বাভাবিক মানুষ কৃষ্ণা রানী কি তাহলে ফুটপাত দিয়েও পথ চলতে পারবেন না? রাষ্ট্রের বিবেক কি অন্ধ হয়ে গেছে?

এসএম