মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ ছায়েদুল হক বলেছেন, ‘পত্রিকায় নেগেটিভ নিউজ ফলাও করে ছাপা হয়। ’রোববার প্রাণিসম্পদ অধিদফতর আয়োজিত ‘গরু মোটাতাজাকরণ ও আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে প্রাণিস্বাস্থ্য সেবা প্রদান’ বিষয়ক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘এই মন্ত্রণালয়ের অগ্রগতি এবং উৎসাহব্যঞ্জক খবর পত্রিকাগুলো তাদের পত্রিকার তিন নম্বর অথবা চার নম্বর পৃষ্ঠায় ছাপে আর নেগেটিভ খবর প্রথম পৃষ্ঠায় ফলাও করে ছাপা হয়।’

রাজধানীর আগারগাঁও এর স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের অডিটোরিয়ামে এ সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মো. আলী নূর।
অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন পুলিশের এআইজি আবদুল আলীম মাহবুব, প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের উপ-পরিচালক এস বি এম গোলাম মাহমুদ, উপ-পরিচালক আজিজুল ইসলাম।
মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন কেন্দ্রীয় ভেটেরিনারি হাসপাতালের চিফ অফিসার এ বি এম শহিদ উল্লাহ। সভাপতিত্ব করেন প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের মহাপরিচালক অজয় কুমার রায়।
সম্প্রতি একটি দৈনিক পত্রিকার প্রথম পৃষ্ঠায় প্রকাশিত গরু মোটাতাজাকরণ সম্পর্কিত খবর প্রসঙ্গে ছায়েদুল হক বলেন, ‘দেশের গুটিকয়েক ব্যবসায়ী হয়তো স্টরেয়ড বা হরমোন ব্যবহারের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে কিন্তু এর সঙ্গে দেশের আপামর মানুষের গরু মোটাতাজাকরণের কোনো সম্পর্ক নেই।’

মন্ত্রী বলেন, ‘অধিদফতরের সম্প্রসারিত টেকনোলজির কোথাও স্টেরয়েড বা হরমোন ব্যবহারের কথা নেই। এ সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ হলে তা দেখার দায়িত্ব আইন মোতাবেক প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের মহাপরিচালক এবং ক্ষমতাবান কর্মকর্তার উপর বর্তাবে।’

তিনি বলেন, ‘প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের কর্মকর্তা-কমচার্রীদের দায়িত্ব হচ্ছে দেশের মানুষের স্বাস্থ্য রক্ষা করা।’

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘গরু মোটাতাজাকরণ প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত হয়ে অগনিত বেকার মানুষ, দুস্থ্য অসহায় বিধবা ও মা বোনেরা দেশের উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার পাশাপাশি নিজেরাও লাভবান হচ্ছেন। প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের কর্মীরা সারাদেশে তৎপর রয়েছে তাই এই কোরবানিতে গবাদি পশু কেনার ব্যাপারে আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন পড়বে না।’
প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের গুরুত্বের কথা তুলে ধরে মন্ত্রী মোহাম্মদ ছায়েদুল হক বলেন, ‘এই দফতরে বদলি বাণিজ্য বন্ধ করা হয়েছে। আগের মতো এখন এখানে বদলি বাণিজ্য হয় না। এখানে সব কিছু চলবে ম্যারিট ব্যাসিসে। এই অধিদফতরে চেইন অব কমান্ড ভাঙ্গতে দেওয়া হবে না। যারা চেইন অব কমান্ড ভাঙ্গতে চাইবে তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হবে।’

ছায়েদুল হক বলেন, ‘টাকা পয়সা দিয়ে শান্তি কেনা যায় না। গুলশান বনানী ও বারিধারায় যেয়ে দেখুন সেখানকার অনেক টাকাওয়ালারই রাতে ঘুম হয় না। কোটি কোটি টাকা রয়েছে তাদের অথচ এককাপ দুধও খেতে পারে না।’

তিনি বলেন, ‘দেশের মানুষের মাথাপ্রতি দৈনিক মাংসের চাহিদা রয়েছে ১২০ গ্রাম। অথচ এখন দেওয়া যাচ্ছে ৮০ গ্রাম। বর্তমানে দেশে মাংসের প্রয়োজন ৬ দশমিক ৭৩ মিলিয়ন মেট্রিক টন। দেওয়া হয় ৪ দশমিক ৫২ মেট্রিক টন। ২০২০-২০২১ সালে দেশে মাংসের চাহিদা দাঁড়াবে ৭ দশমিক ৩০ মেট্রিক টন। বাড়তি এই চাহিদা পুরণের জন্য এই দফতরকে চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে হবে।’

বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মো. আলী নূর বলেন, ‘পত্রিকায় প্রকাশিত গরু মোটাতাজাকরণ নিউজের গ্রহণযোগ্যতা কতটুকু তা নিয়ে ভাবনার অবকাশ থাকলেও এই মন্ত্রণালয়ের চুপ করে থাকার উপায় নেই।

প্রাণিসম্পদ অধিদফতর সঠিক পথে ও সঠিক পদ্ধতিতে গরু মোটাতাজাকরণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এই কোরবানিতে যাতে মানুষ নির্বিঘ্নে গবাধি পশু কিনতে পারে তার জন্য প্রতিটি হাটে প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের মেডিকেল টিম কার্যকর থাকবে। প্রাণিসম্পদ সেক্টরের উন্নয়ন ছাড়া জাতির উন্নয়ন সম্ভব হবে না।

ঢাকা, কেএ, ২৮ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম