মায়ানমার বর্ডার গার্ড পুলিশের (বিজিপি) সঙ্গে পতাকা বৈঠক করতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ২৩ সদস্য মায়ানমারের মংডু শহরে গেছেন।
বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ১০টায় ও মায়ানমার সময় সকাল ১১টায় এ বৈঠক শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টার (বাংলাদেশ সময়) দিকে টেকনাফ বন্দর দিয়ে বিজিবি ২৩ কর্মকর্তার একটি দল মংডু গেছেন। পতাকা বৈঠক শেষে বিকেলে তাদের টেকনাফে ফেরার কথা রয়েছে।
বিজিবি সূত্র জানায়, বৈঠকে বিজিবির ২৩ সদস্যের নেতৃত্বে রয়েছেন বিজিবির কক্সবাজার সেক্টরের কমান্ডার কর্নেল খন্দকার ফরিদ হাসান। প্রতিনিধি দলে রয়েছেন- বান্দরবান সেক্টর কমান্ডার সাইফুর ইসলাম, ১৭ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল ইসলাম, ৩১ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল শফিকুর রহমান, ৫০ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক কায়কোবাদ ও ৪২ বিজিবি ব্যাটলিয়নের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মেজর নাসমৌস শাদাত।
সূত্র বলছে, বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল পাঁচটি এজেন্ডা নিয়ে মায়ানমারের সঙ্গে কথা বলবে। এজেন্ডাগুলো হলো-১৯৪৭ সালের জেনেভা কনভেনশন মোতাবেক সীমান্তের জিরো পয়েন্টে সেনা মোতায়েন নিষিদ্ধ। তা সত্ত্বেও মায়ানমার কেন বার বার জিরো পয়েন্টে সেনা মোতায়েন করছে ও বিজিপি কেন ২৮ মে বিনা কারণে ৫২ পিলারের কাছে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে টহলরত বিজিবি সদস্যদের ওপর গুলি চালিয়ে নায়েক সুবেদার মিজানুর রহমানকে হত্যা করে লাশ নিয়ে যায়।
পরে কেন তারা লাশ ও মিজানুরের কাছে থাকা ১২০ রাউন্ড গুলিসহ এসএমজি বন্দুকটি ফিরিয়ে দিতে তালবাহানা করে। এর ওপর ৩০ মে নায়েক সুবেদার মিজানুরের মৃতদেহ ফেরত দেওয়ার কথা ছিল বিজিপির। কিন্তু সেদিন লাশ না দিয়ে লাশ আনতে যাওয়া বিজিবি সদস্যদের ওপর গুলি চালায় তারা। বিনা কারণে সীমান্তে কেন তারা মর্টার শেলের মতো অস্ত্র ব্যবহার করছে, চোরাচালান, ইয়াবাসহ মাদকদ্রব্য পাচার বন্ধের ব্যাপারে বৈঠকে আলোচনা হবে। এছাড়া বিজিবি-বিজিপির মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে কর্মকৌশল প্রণয়ন করার ব্যাপারেও কথা হতে পারে বৈঠকে।
বিজিবি সূত্র জানায়, ২৮ মে নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তের পাইনছড়ির ৫২ নম্বর পিলারের কাছে বিজিপির গুলিতে নিহত হন বিজিবি সদস্য মিজানুর রহমান। তার মৃতদেহ হস্তান্তর নিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে জটিলতার কারণে ৩০ মে একই সীমান্তে বিজিবি ও বিজিপির মধ্যে গুলি বিনিময় ও মর্টার শেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এনিয়ে সীমান্তে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। ৩১ মে সন্ধ্যায় মিজানুরের মৃতদেহ হস্তান্তরের পর পরিস্থিতি একটু স্বাভাবিক হয়ে উঠে। এরপর মঙ্গলবার রাতে নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তের জামছড়ির ৪৬-৪৫ নম্বর পিলারের মাঝামাঝি এলাকায় মায়ানমারের পক্ষে নতুন করে গুলি বর্ষণ ও মর্টার শেল নিক্ষেপ করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার মংডু শহরে সেক্টর কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠকের জন্য বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানায় মায়ানমার।
এদিকে, মায়ানমারের বৈঠক শেষে বিজিবি সদস্যরা ঠিক কখন ফিরবেন বা ফিরে প্রেস ব্রিফিং করবেন কিনা সে ব্যাপারে কোনো কথা বলেননি বিজিবি কর্মকর্তারা।
[b]ঢাকা, ৫ জুন (টাইমনিউজবিডি.কম)//এসএইচ[/b]