ন্যাশনাল আইডি কার্ড (জাতীয় পরিচয়পত্র)ছাড়া কোন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, সিম ( সাবক্রাইবার আইডেন্টিটি মডিউল ) ক্রয়সহ কোন কাজই সম্পন্ন করা যায়না। তাই জাতীয় পরিচয়পত্রের প্রয়োজনে ভোটার তালিকা হালনাগাদে অর্ন্তভুক্ত হয়েছি। ভোট দেয়ার জন্য নয়।

রাজধানীর ভোটার তালিকা হালনাগাদে নতুন ভোটার হয়েছেন এমন কয়েকজন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের সাথে কথা বললে তারা এ কথা জানান।

তারা জানান, গত ৫ জানুয়ারির দশম সংসদ নির্বাচনের ৩০০শ আসনের ১৫৩টি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। এজন্য এসব আসনের ভোটাদের ভোট দিতে হয়নি। তাই ভোটার হতে আমরা আগ্রহি নই। তবে জাতীয় পরিচয়পত্র ছাড়া কোন কাজ হয়না। তাই আমরা ভোটার ফরম পূরণ করেছি।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞানের ছাত্র আতিক রায়হান বলেন, রাজধানীর আরামবাগ গত বৃহস্পতিবার ভোটার ফরম পূরণ করেছি। ভোটার হয়েছি শুধু জাতীয় পরিচয়পত্রের জন্য। কেননা বর্তমানে পরিচয় পত্র ছাড়া কোন কাজ করা যায়না।

তিনি আরও জানান, দশম সংসদ নির্বাচনে অনেক সংসদীয় আসনের ভোটারগণ ভোট দিতে পারেনি। আগামী একাদশ নির্বাচনে একই অবস্থা হতে পারে। একারণে অনেকে জাতীয় পরিচয় পত্রের জন্য ভোটার ফরম পূরণ করেছে। ভোট দেয়ার জন্য নয়।

এ বিষয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের ছাত্র ওলিয়ার হোসেন তরুন বলেন, সংসদ নির্বাচনে তো ভোটের দরকার হয় না। জনগণের মতামতকে উপেক্ষা করে ভোট ছাড়াই জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হওয়া যায়। ভোটাধিকার প্রয়োগের প্রয়োজন হয়না ।

তিনি বলেন, সিম ক্রয়,ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলাসহ বেশকিছু কাজে পরিচয়পত্র দরকার হয়। তাই ভোটার রেজিস্টেশন ফরম পূরণ করেছি।

এ বিষয়ে মালিবাগের বাসিন্দা ও নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের(বেসরকারি)আবরার আহাদ আলিফ বলেন, জাতীয় পরিচয়পত্র ছাড়া কোন কাজ হয়না। এ জাতীয় পরিচয়পত্র প্রয়োজন। তাই ভোটার ফরম পূরণ করলাম।

তিনি জানান, ভোটার হয়ে তো কোনো লাভ নেই।এবছর আমার বড় ভাইসহ পরিবারের কেউ ভোট দিতে পারেনি। আগামীতে ভোট দিতে পারবেন সে নিশ্চয়তা কেউ দিতে পারবে না। তাই ভোটার হয়ে কোন লাভ নেই।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ছাত্র মুশফিক খান কবি জসিমউদ্দীন হল থেকে ভোটার হয়েছেন। গ্রামের বাড়িতে ভোটার হননি কেন জানতে চাইলেতিনি বলেন, ভোট দিতে ভোটার ভোটার ফরম পূরণ করেনি। জাতীয় পরিচয়পত্র পাওয়ার জন্য এবার ভোটার হচ্ছেন। ভোট ছাড়াই তো বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আছে। তাদের তো ভোটের দরকার হয়নি।

বংশাল এলাকায় নতুন ভোটারদের তথ্য সংগ্রহকারী পারুল ভৌমিক জানান,নতুন ভোটারদের তথ্য নিতে গিয়ে বেশ কিছু বিব্রতকর প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়েছে। ভোটার হতে অনেকের মধ্যে অনীহা রয়েছে। তবে তারা জাতীয় পরিচয়পত্র পাওয়ার আশায় ভোটার হয়েছেন।

এ বিষয়ে সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদারবলেন, দশম সংসদ নির্বাচনে ১৫৩ জন প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ায়যারা নতুন ভোটার হবেন তারা ভোটার হওয়াকে গুরুত্ব দিচ্ছেনা। তাদের(নতুন ভোটারদের) জাতীয় পরিচয়পত্র প্রয়োজন তাই ভোটার ফরম পূরণ করছে। নির্বাচনে ভোট দেয়ার জন্য নয়।

এবিষয়ে নির্বাচন কমিশনার মো.শাহ নেওয়াজবলেন, ভোটার হওয়ার যোগ্য এমন ব্যক্তিদের নির্ধারিত সময়ে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা নির্বাচনকমিশনের কাজ।তথ্য সংগ্রহকারী সুপার ভাইজারগন এ কাজ করছেন। যারপ্রয়োজন সে ভোটার হবেন।

উল্লেখ্য, গত ১৫ মে শুরু হওয়া হালনাগাদ কার্যক্রমে প্রথম পর্যায়ে ১৮১টি ও দ্বিতীয় পর্যায়ে ২১৩টি উপজেলা/থানায় নতুন ভোটার নিবন্ধন কার্যক্রম শেষ হয়েছে।

আর গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীসহ দেশের মোট ১২০ টি উপজেলায় ভোটার তালিকা হালনাগাদের তথ্য বাড়ি বাড়ি গিয়ে সংগ্রহের কাজ শেষ হয়েছে।আর আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৪ হতে নিবন্ধন কেন্দ্রে ছবি তোলা ও নিবন্ধনের কাজ চলবে।

বর্তমানে ভোটার ৯কোটি ১৯ লাখ ৫০ হাজার ৬৪১ জন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার চার কোটি ৬১ লাখ ১৮ হাজার ২২০ জন এবং নারী ভোটার চার কোটি ৫৮ লাখ ৩২ হাজার ৪২১ জন।

ঢাকা,এএম,১৫ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম, এসএইচ