আর মাত্র কয়েক দিন বাকি।বাঙালিদের দরজায় করা নাড়ছে ।বাঙালি জাতির স্বকীয়তার উৎসব,প্রানের উৎসব।তার নাম পহেলা বৈশাখ। বাংলা নববর্ষ। তাকে বরণ করতে প্রস্তুত রাজধানী বাসী।
সেই সঙ্গে প্রস্তুত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চারুকলা, ফ্যাশান হাউজ ,রেস্তোরা, মৃত শিল্পের দোকান,শিশু পার্ক সহ বিভিন্ন বিনোদনরে স্হানগুলো।সঙ্গে চলছে ধোয়া-মোছা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ।
সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে বাঙালি জাতি আজ সাংস্কৃতিতে এনছে কিছু পরিবর্তন।কিছু যোগ করেছে আবার কিছু সাংস্কৃতিকে বাদ দিয়েছে।এখন পান্তা ইলিশ খাওয়ার পাশাপাশি পোশাকে এনেছে দারুন পরিবর্তন।চলছে গ্রামীন সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য ধরে রাখার প্রচেষ্টা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যায়ের চারুকলার শিক্ষার্থীরা।প্রতিবছরের নেয় এবার প্রস্তুত ১৪২৩ বঙ্গাব্দকে বরণ করার জন্য।প্রতিবছর পহেলা বৈশাখকে বরণ করার গুরুদায়িত্ব বর্তায় চারুকলার কোনো একনির্দিষ্ট ব্যাচেরে উপর।এবারে দায়িত্ব্য পড়েছে ১৩তম ব্যাচ শিক্ষার্থীদের কাঁধে।এই বাংলা নববর্ষকে বরণ করেতে নানা রকম মুখোশ, ফেস্টুন, সরা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছে চারুকলার ছাত্র-ছাত্রীরা।
চারুকলার শিক্ষার্থী তন্ময় বলেন, প্রতি বছরের ন্যায় এবার ও আমরা বিভিন্ন মাটি শিল্প তৈরী করছি।রাত দিন পরিশ্রম করছি যাতে পহেলা বৈশাখের আগে হাতের কাজ শেষ করতে পারি।
শুধু পহেলা বৈশাখের মঙ্গল শোভাযাত্রাকে আকর্ষণীয় করতে দিনরাত কঠোর পরিশ্রম করছেন শিক্ষার্থীরা। সবার স্বপ্ন একটাই, এই শোভাযাত্রায় তারা তুলে ধরতে চায় সমগ্র বাংলা ও বাংলার সংস্কৃতিকে।
বৈশাখ ঘিরে দেশের নামকরা ফ্যশন বুটিক হাউজগুলোতেও থাকছে বাহারি আয়োজন। প্রতিষ্ঠিত দেশীয় পোশাক-ঘরগুলোর পাশাপাশি অন্যান্য দোকানও সেজেছে বৈশাখী সাজে।নারী-পুরুষ, তরুণ-তরুণী, শিশু-কিশোর সবাই বৈশাখে নিজের মনের মতো পোশাক পরতে চান। ছেলেদের থাকছে বৈশাখি ফতুয়া-প্যান্ট, শার্ট-প্যান্ট, টি-শার্ট ও পাঞ্জাবির কালেকশন। হাতের কাজ, এমব্রয়ডারি কাজ, প্রিন্ট ও নানা মাধ্যমের ব্যবহারে তৈরি পোশাকগুলো উত্সবমুখী, আরামদায়ক এবং কাট ও ফিনিসে উন্নত।
আর মেয়েদের জন্য রয়েছে নানা ডিজাইনের শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ,ফ্রক, স্কার্ট-টপ্স ও ফতুয়া থাকছে বিভিন্ন দামে, লাল, কমলা, হলুদসহ উজ্জ্বল নানা রঙে।
প্রতি বছরের মত এবার ও বিভিন্ন রেস্তোরায় আয়োজন করছে বাঙালির চিরন্তন পছন্দের ইলিশ ভাজা। থাকছে শুঁটকি ও নানান রকম ভর্তা।রেস্তোরার সালাদ বার পরিবেশন করা হবে বরফি, মিক্সড ভেজিটেবল স্টিক, মিক্সড দেশি সালাদ, মশলাদার কুমড়ো সালাদ, আলু ভর্তা, বেগুন ভর্তা, পুদিনা ও টমেটোর চাটনি ও নানান রকম আচার।
এছাড়া ডেজার্ট হিসেবে থাকছে তাজা ফল, পিঠা, সেমাই, ফিরনি, রসমালাই, মিষ্টি দই, গুঁড়ের পায়েসসহ আরও অনেক কিছু।মৃত শিল্প ।বাংলাদেশের অতি প্রাচীন একটি শিল্প ।বৈশাখ মাস আসলে বিভিন্ন স্হানে দেখা যায় মৃত শিল্প।পালদের মাটি দিয়ে তৈরি নানা জিনিস এর মধ্যে হাড়ি, কড়াই, কলস, ভাঁড়, টালি, খেলনা, পুতুল, ফুলদানি, ছাঁইদানি ইত্যাদি বাংলার পুরোনো ঐতিহ্য বহন করে। পাল বা কুমাররা মাটি দিয়ে শৈল্পিক হাতে তৈরী করেন বিভিন্ন রকম মাটির হাড়ি-পাতিল, মাছ ধোয়া ঢোলা, কলস, পনুয়া, কসুরী, ছোট বাচ্চাদের বিভিন্ন প্রকার খেলনা যেমন- পুতুল , নৌকা, বালতি, গামলা, জগ, কাড়াই, চুলা, টাকা জমানোর ব্যাংক ইত্যাদি।
পহেলা বৈশাখ কে বরণ করতে শিশু পার্ক সহ বিভিন্ন বিনোদনের স্হান গুলো নিচ্ছে নানান ধরনের প্রস্তুতি।তাই সবাই হাতে হাত রেখে বলতে থাকি।
জেগে ওঠ দেশ, গেয়ে যাই গান, এসো হে বৈশাখ এসো এসো...।
এইচ ই





