বিগত ১০ বছরে বাংলাদেশে অর্থ পাচার ১২০ শতাংশ বেড়েছে বলে দাবি করেছে দুর্নীতি প্রতিরোধ বিষয়ক আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)
আজ (রবিবার) দুপুরে টিআইবি’র মেঘমালা সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বিগত ২০০৫ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত দেশ থেকে অবৈধভাবে অর্থপাচার ও প্রবেশ বৃদ্ধি পেয়েছে ১২০ শতাংশ।
এর মধ্যে, শুধুমাত্র ২০১৫ সাল থেকে ২০১৬ সালে সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশী আর্থিক প্রাতিষ্ঠান ও নাগরিকদের জমা বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় এক হাজার কোটি টাকা।
তবে, অবৈধ অর্থ পাচার বাড়লেও টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বা সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোল-এসডিজি ২০১৬ এর লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে কিছুটা এগিয়েছে বাংলাদেশ।
‘টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট(এসডিজি)১৬: দুর্নীতি প্রতিরোধ ও সুশাসন সংশ্লিষ্ট লক্ষের ওপর বাংলাদেশের প্রস্তুতি, বাস্তবতা ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন উপলক্ষ্যে আয়োজন করা হয় এই সংবাদ সম্মেলনের।
গবেষণা প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন টিআইবির গবেষণা ও পলিসি বিভাগের সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার শাহাজাদা এম আকরাম।
গবেষণার সার্বিক পর্যবেক্ষণে বলা হয়, এসডিজি১৬-এর লক্ষ্যগুলোর প্রায় সবগুলোর ক্ষেত্রে কিছু কিছু ঘাটতি সত্ত্বেও বাংলাদেশে আইন, নীতি ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রস্তুতি যথেষ্ট পরিপুষ্ট। উদ্যোগ থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশে দুর্নীতি ও ঘুষ,অর্থপাচার, মৌলিক স্বাধীনতার ব্যত্যয় ও মানবাধিকার লঙ্ঘন অব্যাহত রয়েছে।
জাতীয় শুদ্ধাচার কাঠামোর অন্তর্ভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো প্রত্যাশিত পর্যায়ে কার্যকর না হওয়ার পেছনে দলীয় রাজনৈতিক প্রভাব,কেন্দ্রীভূত ক্ষমতা, নির্বাহী বিভাগ ও প্রশাসনের আধিপত্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের জনগণের কাছে জবাবদিহিতার কোনো কাঠামো নেই;অভ্যন্তরীণ জবাবদিহিতা ব্যবস্থাও দুর্বল। স্বপ্রণোদিত তথ্য প্রকাশ পর্যাপ্ত নয় বলেও পর্যবেক্ষনে তুলে ধরা হয়।
এসময় উপস্থিত ছিলেন,টিআইবি’র ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারপারসন সুলতানা কামাল, নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান, অধাপক ড. সুমাইয়া খায়ের, মো. ওয়াহিদ আলম , এ এস এম জুয়েল মিয়া, মো. রেযাউল করিম ও শহীদুল ইসলামসহ গবেষণা সংশ্লিষ্টরা।





