যশোরের বেনাপোল থানা থেকে আড়াই লাখ টাকার বিনিময়ে দুই মাদক পাচারকারীকে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আর এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থানার এএসআই আশরাফ ও এএসআই সুজিত।

জানা গেছে, শনিবার রাতে বেনাপোল সীমান্ত থেকে এক কেজি হেরোইনসহ তিন যুবককে আটক করেন ওই দুই এএসআই।

আটকের পর তিন ঘণ্টা থানা হাজতে রেখে দেন-দরবারের মাধ্যমে দুইজনকে আড়াই লাখ টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। অপরজনকে রবিবার দুপুরে ৫শ’ গ্রাম গাজার মামলা দিয়ে যশোর আদালতে পাঠানো হয়।

ছেড়ে দেওয়া দুই যুবক হলেন-বেনাপোল পোর্ট থানার নামাজ গ্রামের মৃত শের আলীর ছেলে মনির হোসেন (৩৫) এবং মৃত হযরতের ছেলে তরিকুল ইসলাম (২৩)। অন্যদিকে, আদালতে পাঠানো যুবক হলেন-যশোরের বেজপাড়া এলাকার মামুন হোসেন (৩২)।

থানা হাজতে আটক থাকাবস্থায় শনিবার রাতে আটকরা জানায়, এএসআই আশরাফ ও এএসআই সুজিত তাদেরকে ধরে এনেছেন।

জানা যায়, নামাজ গ্রামের এক হেরোইন ডিলার এক কেজি হেরোইন বিক্রি করেন আটক মামুনের কাছে। চালানটি পরিবহন পর্যন্ত পৌঁছানোর জন্য সাথে দেওয়া হয় মনির ও তরিকুলকে।

কিন্তু এএসআই আশরাফ ও এএসআই সুজিত পথিমধ্যে মনিরের বাড়ির সামনে থেকে তাদেরকে এক কেজি হেরোইনসহ হাতেনাতে আটক করে থানায় নিয়ে আসেন।

পরে গভীর রাতে ওই হেরোইন ডিলারের মাধ্যমে নগদ আড়াই লাখ টাকার বিনিময়ে মনির ও তরিকুল ছেড়ে দেন ওই পুলিশ কর্তারা।

পোর্ট থানার এএসআই সুজিত তিনজনকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘ঘটনাটি আমি জানি। তবে আটক আমি করিনি। আটক করেছিল এএসআই আশরাফ।’

পরে ফোন করা হয় এএসআই আশরাফের কাছে। কিন্তু তিনি ফোন রিসিভ করেননি। এমনকি থানায় গিয়ে সাক্ষাত করা হলেও তিনি এ ব্যাপারে কথা বলতে রাজি হননি।

থানার অন্যান্য পুলিশ সদস্যের সাথে কথা বলে জানা যায়, সবাই বিষয়টি জানেন। কিন্তু এএসআই আশরাফ ও এএসআই সুজিতের ভয়ে নাম প্রকাশ করতে কেউ রাজি হননি। তারা বলেন, পত্রিকায় লিখলেও কোনো কাজ হয় না। ইতোমধ্যে এদের বিরুদ্ধে পত্রিকায় অনেক লেখালেখি হয়েছে কিন্তু বহাল তবিয়তেই রয়েছেন।

থানা সূত্র থেকে জানা যায়, এএসআই আশরাফ দম্ভ করে বলেছেন,‘আমার বিরুদ্ধে পত্রিকায় লিখে কী হবে? আগেও তো লিখেছে। কী হয়েছে ? আমার চাকরি গেছে নাকি বদলি হয়েছে? যা কামাই, উপরের স্যারদের ভাগ দেই। আমরা কী করি, স্যারেরা তা জানে।’

এমকে