রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় এখনো ওয়াসার পানিতে ময়লা দুর্গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। ভুক্তভোগী গ্রাহকরা জানিয়েছেন, এ পানি ফুটিয়েও পান করা দূরের কথা গৃহস্থালি কাজেও ব্যবহার করা যায় না। দ্রুত এ সমস্যা সমাধানের দাবি এলাকাবাসীর।

রাজধানীর দক্ষিণ দনিয়ার রসুলবাগ এলাকায় ওয়াসার সরবরাহ করা পানি কোনো কাজেই ব্যবহার করা যায় না।

স্থানীয়রা জানান, গেল তিন বছর থেকে ওয়াসার লাইনে এমন কালো ও ময়লা পানি আসে। এই পানি খাওয়া বা রান্না কোনো কাজেই ব্যবহার করা যায়না। তারা বলেন, পান করার জন্য তো বটেই, রান্না এবং দৈনন্দিন ব্যবহারের পানিও অন্য জায়গা থেকে কিনে আনতে হয়।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, মসজিদ থেকে প্রতি কলস পানি কিনতে হয় পাঁচ টাকা করে। আর বোতল প্রতি পানির খরচ পড়ে ৩৫ টাকা। সে হিসাবে প্রতিটি পরিবারের দৈনন্দিন কাজে ব্যবহারের জন্য অতিরিক্ত ৩০০ টাকা খরচ হয়।

রসুলবাগ ছাড়াও শ্যামপুর, পূর্ব জুরাইনসহ অন্যান্য এলাকায় গিয়েও দেখা গেছে একই অবস্থা। নোংরা পানি ব্যবহার করায় এসব এলাকায় চর্মরোগের প্রকোপ বেড়েছে।এলাকাবাসী ওয়াসার অফিসে অভিযোগ নিয়ে গেলে সমাধানের আশ্বাস দিলেও শেষ পর্যন্ত তার সুরাহা হয়নি।

ঢাকা ওয়াসার পানি ফুটিয়ে ব্যবহার করতে বছরে ৩৩২ কোটি টাকার গ্যাস অপচয় হয় বলে সম্প্রতি এক গবেষণায় তুলে ধরে টিআইবি। তার জবাব দিতে গিয়ে ওয়াসার পানি শতভাগ সুপেয় বলে দাবি করেন প্রতিষ্ঠানটির এমডি। এ নিয়ে তুমুল সমালোচনার মধ্যে, জুরাইন এলাকায় সরবরাহ করা ওয়াসার পানি দিয়ে শরবত পান করানোর অভিনব কর্মসূচি নেন সেখানকার বাসিন্দা মিজানুর রহমানসহ কয়েকজন। এই ঘটনাকে নাটক বলে অভিহিত করেন ওয়াসার এমডি। পরে, প্রতিষ্ঠানটি বিবৃতি দিয়ে বলেছে, মিজানুরের বাড়ির পানি পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে।

এ বিষয়ে মিজানুর রহমান বলেন, 'কোনো ধরনের অনুমতি ছাড়াই ওয়াসার লোকজন বাসায় প্রবেশ করে এবং তারা যেভাবে কথা বলে তাতে একটা ভীতিকর পরিবেশ তৈরি হয়।' তিনি আরও অভিযোগ করে বলেন, 'পানির বিষয়ে ওয়াসার কর্মকর্তারা জানান বস্তি এলাকায় থাকলে পানি এমনই হবে।'

এদিকে, দ্রুততম সময়ের মধ্যে পানির সমস্যা দূর করার দাবি জানিয়েছেন রসুলপুর, শ্যামপুর, জুরাইনসহ আশপাশের এলাকার লোকজন। সূত্র: ডিবিসি অনলাইন।

এসএম