গত কয়েক দিনের ঘন কুয়াশা এবং মৃদু শৈত প্রবাহের কারণে গাইবান্ধার ৭ উপজেলার সর্বত্রই শীতে জুবু-থুবু হয়ে পড়েছে গরীব অসহায় মানুষেরা।
উত্তরের হিমেল হাওয়া প্রবাহিত হওয়ায় গত ৫ দিন ধরে জেলার বিভিন্ন স্থানের দিন মজুরেরা কোন কাজ-কর্ম করতে না পেরে স্ত্রী সন্তান নিয়ে অর্ধাহারে-অনাহারে দিনাকাটাতে শুরু করেছে।
প্রচন্ড শীতে সাধারণ মানুষেরা বিশেষ করে শিশু এবং বয়স্করা বেশি কষ্ট পাচ্ছে। শীতের কারণে শিশু ও বৃদ্ধরা নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েছেন।
জানা গেছে, গত কয়েক দিনের ঘন কুয়াসা এবং মৃদু শৈত প্রবাহের ফলে উত্তরাঞ্চলের রংপুর বিভাগের ৮ টি জেলার ন্যায় গাইবান্ধা জেলায় ৩য় বারের মতো প্রচন্ড শীত পড়েছে।
এই শীতে অবস্থাশালী পরিবার গুলোর তেমন ক্ষতি না হলেও নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের লোকজন নানা সমস্যায় পড়েছে।
একদিকে হরতাল অবরোধ তার উপর দ্রব্য মূল্যের উর্ধ্বগতিতে এসব পরিবারের নাভিশ্বাস উঠে গেছে। গরীব অসহায় লোকরা তাদের সংসার চালাতেই হিসশিম খেতে হচ্ছে তার উপর শীতের কারণে কোন কাজ-কর্ম করতে না পেরে গত কয়েকদিন থেকে অনেক পরিবারই অর্ধাহারে অনাহারে দিন কাটাতে শুরু করেছে।
রোববার বিকেলে ৭ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে খবর নিয়ে জানা গেছে, শীতের তীব্রতা আরও বৃদ্ধি পাওয়ায় অল্প আয়ের মানুষের দুর্ভোগ বেড়েই চলছে। শীতের কবল থেকে বাঁচার জন্য গ্রামাঞ্চলের লোকজন খড়কুটো জ্বালিয়ে গা গরম করছে।
অনেকেই ইতিমধ্যে সর্দি, কাশি, ডায়রিয়া, অমাশয় সহ শীত জনিত নানাবিধ রোগব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে পড়েছেন। বিভিন্ন স্থানের ফুটপাতের পুরানো কাপড়ের দোকানগুলোতে উপচে পড়া ভীড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
গত কয়েকদিনে শীতের তীব্রতা বাড়লেও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শীতার্ত মানুষের মধ্যে চাহিদা অনুযায়ী শীতবস্ত্র বিতরণ করা হচ্ছে না।
এছাড়াও এখানে বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা গুলোও এখন পর্যন্ত তেমন একটা শীতবস্ত্র নিয়ে এগিয়ে আসছে না অসহায়দের মাঝে। ফলে দুস্থ শীতার্ত মানুষের দুর্ভোগ চরমে উঠেছে। জেলার হতদরিদ্র ও খেটে খাওয়া মানুষের মধ্যে শীতবস্ত্রের জন্য হা-হা-কার শুরু হয়েছে।
এসএইচ





