পাবনার ঈশ্বরদীতে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী ফারহানা আক্তার ইভাকে (২২) শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ অভিযোগে স্বামী শাওন হোসেনকে (২৮) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার রাত ১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
ফারহানা আক্তার ইভা ঈশ্বরদী উপজেলার বড়ইচড়া গ্রামের আক্তার হোসেনের মেয়ে। শাওন পৌর সদরের দড়িনারিচা এলাকার বাবুল হোসেনের ছেলে। তাদের আরিয়া নামে ৬ মাসের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।
পরিবারের বরাত দিয়ে ঈশ্বরদী থানার অফিসার ইন চার্জ (ওসি) বিমান কুমার দাস জানান, আড়াই বছর আগে শাওন ও ফারহানার বিয়ে হয়। বিয়ের এক বছর পর থেকে যৌতুকের জন্য স্ত্রী ফারহানার সঙ্গে দাম্পত্য কলহ শুরু হয়। সম্প্রতি ব্যবসা করার নাম করে স্ত্রী ফারহানাকে তার বাবার কাছ থেকে ২ লাখ টাকা এনে দিতে বলে। টাকা এনে না দেওয়ায় ফারহানার ওপর শুরু হয় নির্যাতন।
ওসি আরও জানান, ফারহানা আত্মহত্যা করেছেন নাকি তাকে হত্যা করে আত্মহত্যা বলে চালানোর চেষ্টা করা হচ্ছে, তা নিশ্চিত হওয়া যাবে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর। এ ঘটনায় ফারহানার বাবা আক্তার সরদার বাদী হয়ে তার জামাতা শাওনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে মঙ্গলবার সকালে শাওনকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।
ফারহানার চাচা রকিবুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, ‘যৌতুকের দাবিতে শাওন সোমবার রাতে ফারহানা আক্তার ইভাকে বেধড়ক মারপিট করে। একপর্যায় গলায় ফাঁস দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যার পর ঘরে ঝুলিয়ে রাখে। রাত ১টার দিকে বাড়ির ভাড়াটিয়াদের ডেকে ফারহানাকে নামিয়ে হাসপাতালে নিয়ে যায়। এ সময় চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এর পর ফারহানা আত্মহত্যা করেছে বলে তার পরিবারকে জানায় শাওন। পরে ফারহানার স্বজনরা ঘটনাটি থানায় জানালে পুলিশ হাসপাতাল থেকে ফারহানার মৃতদেহ উদ্ধার ও স্বামী শাওনকে আটক করে।’
ঢাকা, ২৬ আগস্ট, টাইমনিউজবিডি.কম, কেএইচ





