টানা বৃষ্টির পর চট্টগ্রাম, রাঙামাটি ও বান্দরবানের বিভিন্ন স্থানে ভয়াবহ বিপর্যয়ের পর ধসে পড়া পাহাড়ের মাটি সরিয়ে হতাহতদের উদ্ধারে দ্বিতীয় দিনের অভিযান শুরু করেছেন উদ্ধারকর্মীরা।
এদিকে চট্টগ্রাম বিভাগের তিন জেলায় পাহাড় ধসে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩৫ জনে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের দায়িত্বরত কর্মকর্তা দলিল উদ্দিন জানান, পাহাড় ধসের ঘটনায় আজ বুধবার সকাল ১০টা পর্যন্ত রাঙামাটিতে ৯৮ জন, চট্টগ্রামে ২৯ জন এবং বান্দরবানে ৬ জনের লাশ উদ্ধারের তথ্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
এছাড়া চট্টগ্রামে গাছ চাপা, দেয়াল চাপা ও পানিতে ভেসে আরও অন্তত ৬জনের মৃত্যুর তথ্য তারা পেয়েছেন। তবে বান্দরবানের স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে নিহতের সংখ্যা ৭জন।
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে গত রোববার থেকে দেশের দক্ষিণ পূর্বের জেলাগুলোতে ভারি বৃষ্টির কারণে মাটি সরে গিয়ে সোমবার রাত থেকে এই ৩ জেলার বিভিন্ন পাহাড়ে ধস নামে। সেই সঙ্গে পাহাড়ি ঢলে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে দেখা দেয় ভয়াবহ বিপর্যয়।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের পাশাপাশি সেনাবাহিনী, পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা বৃষ্টির মধ্যেই মঙ্গলবার ভোর থেকে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন।
রাতে আলোর অভাবে অভিযান স্থগিত রাখার পর বুধবার সকালে আবারও মাটি সরিয়ে নিখোঁজদের সন্ধানে তল্লাশি শুরু হয় রাঙামাটি ফায়ার সার্ভিসের উপ সহকারী পরিচালক দিদারুল আলম ও বান্দরবান ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা তারিকুল ইসলাম জানান।
দিদারুল আলম আমাদের রাঙামাটি প্রতিনিধিকে জানান, শহরের ভেদভেদিসহ যেসব স্থানে মঙ্গলবার মাটি সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি, সেখানে বুধবার সকালে তারা কাজ শুরু করেছেন।
আর বান্দরবানের জেলেপাড়ায় পাহাড় ধসের পর নিখোঁজ মা কামরুন্নাহার ও মেয়ে সুফিয়ার সন্ধানে তল্লাশি চলছে বলে জানা গেছে। সূত্র বলেন, “সেখানে পাহাড়ের একটা বিরাট অংশ ধসে পড়েছে। তাই সরাতে সময় লাগছে।”
মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে বান্দরবানের আবহাওয়া পরিষ্কার রয়েছে। নিম্নাঞ্চলে জমে থাকা পানিও কমতে শুরু করেছে।
পাহাড় ধসে সবচেয়ে বেশি হতাহতের ঘটনা ঘটেছে পার্বত্য জেলা রাঙামাটিতে। রাঙামাটি সদরে ৫৩ জন, কাউখালীতে ২৩ জন, কাপ্তাইয়ে ১৮ জন, জোড়াছড়িতে ২ জন এবং বিলাইছড়িতে ২ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জেলা প্রশাসক মানজুরুল মান্নান জানিয়েছেন।
এর মধ্যে মানিকছড়িতে একটি সেনা ক্যাম্পের কাছে পাহাড় ধসের ঘটনায় উদ্ধার তৎপরতা চালাতে গিয়ে ফের ধসে নিহত হন দুই কর্মকর্তাসহ ৪ সেনা সদস্য।
চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার ইসলামপুর ইউনিয়নের মইন্যারটেক ও পাহাড়তলী ঘোনা, রাজানগর ইউনিয়নের জঙ্গল বগাবিল, চন্দনাইশ উপজেলার ধোপাছড়ি ইউনিয়নের দুই নম্বর ওয়ার্ডের শামুকছড়ি ও ছনবনিয়া এলাকায় পাহাড় ধসে ২৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।
আর বান্দরবান শহরের কালাঘাটায় এক কলেজছাত্র, লেমুঝিরি ভিতর পাড়ায় একই পরিবারের ৩ শিশু এবং সদর উপজেলার কুহালং ইউনিয়নের গুংগুরু সম্বোনিয়া পাড়ায় আরও ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
রাঙামাটির জেলা প্রশাসক মানজারুল মান্নান জানিয়েছেন, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতদের প্রত্যেকের পরিবারকে ২০ হাজার টাকা ও ২০ কেজি করে চাল দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া পার্বত্য জেলা পরিষদের পক্ষ থেকেও নিহতদের পরিবারকে ২০ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, এছাড়া ৩ জেলায় ১৮টি আশ্রয়কেন্দ্র খুলে চার থেকে সাড়ে ৪ হাজার মানুষকে সেখানে রাখা হয়েছে।
এমবি





