র‌্যাবের গোয়েন্দা শাখার প্রধান লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবুল কালাম আজাদকে দেশে ফেরত আনা হচ্ছে।   ইতোমধ্যে এয়ার এম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতাল থেকে তাঁকে নিয়ে রওনা দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান।

তিনি জানান, সিঙ্গাপুরের চিকিৎসকরা পরীক্ষা নিরীক্ষা করেছেন, ওই দেশের চিকিতসকের পরামর্শ অনুযায়ী দেশে ফেরত আনার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। তাঁকে ঢাকার সিএমএইচে ভর্তি করা হবে। আশাকরি অল্প সময়ে আজাদের এয়ার এম্বুলেন্সটি ঢাকায় অবতরণ করবে।   

এদিকে র‌্যাব প্রধান আজাদের অবস্থা ভালো নয় বলে জানিয়েছেন তার স্ত্রীর বড় ভাই ডা. শিমুল আহমদ। বুধবার ডা. শিমুল আহমদ টেলিফোনে জানান, সিঙ্গাপুরের চিকিৎসকরাও তার অবস্থার উন্নতি ঘটাতে পারেননি। আজকালের মধ্যে তাকে দেশে ফেরত পাঠানো হচ্ছে।

সিঙ্গাপুরের প্যারাগন মেডিকেল সেন্টারের নিউরো বিশেষজ্ঞ ডা. ম্যাথিউকে কর্নেল আজাদের শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছেন বলে জানান ডা. শিমুল আহমদ।

তিনি বলেন, ‘কর্নেল আজাদের মস্তিষ্কে তিনটা স্প্লিন্টার ঢুকেছে। সেগুলো অস্ত্রোপচার করে অপসারণ করা সম্ভব নয় বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। তাই আজাদকে দেশে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তার পরিবার। আজকালকের মধ্যে যখনই এয়ার অ্যাম্বুলেন্স পাওয়া যাবে তখনই আজাদকে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে।’  

‘দেশে এনে সম্মিলিতি সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) লাইফ সাপোর্টে রাখা হবে কর্নেল আজাদকে। এভাবে যে কয়দিন বাঁচেন,’বলেন ডা. শিমুল।

গত শনিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে সিলেটের আতিয়া মহলে সেনাবাহিনীর প্যারা কমান্ডোদের জঙ্গিবিরোধী অভিযানের সময় দক্ষিণ সুরমার গোটাটিকর মাদ্রাসার সামনে পুলিশের চেকপোস্টের কাছে প্রথম বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এর এক ঘণ্টার মাথায় রাত ৮টার দিকে আগের ঘটনাস্থলের কাছে পূর্ব পাঠানতলা মসজিদ এলাকায় আরেকটি বিস্ফোরণ হয়। এতে দুই পুলিশ কর্মকর্তাসহ ছয়জন নিহত হন। আহত হন অন্তত ৪৫ জন। ওই বোমা বিস্ফোরণে গুরুতর আহত হন লে. কর্নেল আজাদ।

এমই