রমজান মাসে ইতফারিতে খেজুর লাগবেই, না হলে মনে হবে ইফতার অপূর্ণ থেকে যাবে। আর এ বছর বাজার ধরতে সৌদি-আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ মধ্য প্রাচ্যের দেশগুলো থেকেই বাংলাদেশে খেজুর এলেও এবার এসব দেশের পাশাপাশি সুদূর আফ্রিকা মহাদেশের নাইজেরিয়া থেকেও খেজুর এসেছে। তবে যুদ্ধ বিধ্বস্ত ইরাক থেকে এবার কোন খেজুর আসেনি।
শুক্রবার দিবাগত গভীর রাতে ওই বাজারে গিয়ে দেখা গেলো খেজুর মজুদের ধুম।বাদামতলীর পাইকারি বাজারে মান বিচারে এই খেজুর বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা থেকে এক হাজার টাকা কেজি দরে।
স্থানীয় এক বিক্রেতা জানান, শব ই বরাতের দিন থেকেই এসব খেজুর আসা শুরু হয়েছে।খুচরা ক্রেতারা এখান থেকে পাইকারি খেজুর কিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যাচ্ছেন।
নাজল নামে মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমদানিকৃত ১০ কেজির এক প্যাকেট খেজুরের মূল্য ১৪শ’ টাকা। অর্থ্যাৎ প্রতি কেজি পড়েছে ১৪০ টাকা। আবার বরই নামে এক প্রকার খেজুর বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকা কেজি দরে। এটিও ১০ কেজির প্যাকেট। তবে ৫ কেজি ও ৮ কেজির প্যাকেটও রয়েছে।
আর অত্যন্ত উৎকৃষ্ট মানের খেজুর মরিয়ম এর ৫ কেজির প্যাকেট বিক্রি হচ্ছে ৫ হাজার টাকায়। ইউসুফ নামক খেজুরের ৮কেজির প্রতি প্যাকেটের দামও ৫ হাজার টাকা।
আলজেরিয়ার উন্নত প্রজাতির অপর এক খেজুর বিক্রি হচ্ছে কেজি প্রতি ২শ’ টাকা দরে।সৌদি-আরব থেকে ৩০ কেজির একপ্রকার হলুদ বস্তায় ব্যাপক পরিমাণে খেজুর এসেছে।এ খেজুরের মান ততটা ভালো নয় জানিয়ে এক ক্রেতা বলেন, এ খেজুরের দর ৬০ টাকা করে।
তবে ওই ক্রেতা এও বলেন, এই দলা পাকানো খেজুরই রমজানে বাংলাদেশের মূল চাহিদা পূরণ করে থাকে। প্রায় সব খেজুরের প্যাকেটেই প্যাকেজিং সময় দেখানো হয়েছে জানুয়ারি ২০১৪ থেকে জুলাই ২০১৫ পর্যন্ত। তবে বস্তার খেজুরে মেয়াদ উর্ত্তীনের ছাপ খুবই অস্পস্ট।
বাজারে দাঁড়িয়েই কথা হয়, বাদামতলীর ফল বিক্রেতা সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাজী সিরাজুল ইসলাম এর সঙ্গে।তিনি বলেন, প্রতিদিনই খেজুরসহ সব আমদানিকৃত ফল-মূলের ফরমালিন টেস্ট করছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। এখনও কোন খেজুরে ফরমালিন পাওয়া যায়নি।
তারই পাশেই দাঁড়িয়ে থাকা উত্তরবঙ্গ থেকে আসা এক পাইকরি ফল ক্রেতা শাহ আলম বলে উঠেন, ফল-মূলে কোন দিনই ফরমালিন দেওয়া হয়না।তার দাবি, উদ্ভিদজাত পণ্যে কোন ফরমালিনের প্রয়োজন পড়ে না। সাধারণত প্রাণিজ পণ্যে বিশেষ করে মাছ-মাংসে ফরমালিন ব্যবহার করা হয়।
পুলিশ যে যন্ত্র দিয়ে ফরমালিন মাপে সে যন্ত্রটি ভুয়া অভিযোগ করে শাহ আলম বলেন, পুলিশ পয়সা খাওয়ার নতুন বুদ্ধি বের করেছে। সামনে ঈদের পর দেখবেন ফরমালিন ধরার নামে এসব কর্মকাণ্ড বন্ধ হয়ে যাবে।
তিনি আরো বলেন, ফরমালিন ধরার আগেও মানুষ ফল খেত, এখনও খাচ্ছে এবং ধরা বন্ধ হওয়ার পরও খাবে। মানুষ খাবে টাকা দিয়ে আর পুলিশ খাবে মাগনা।
ঢাকা, ২৮ জুন (টাইমনিউজবিডি.কম)//এসএইচ





