দুর্বৃত্তদের হামলায় আহত দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াহিদা খানমের অবস্থা সংকটাপন্ন। বর্তমানে তিনি ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে তাঁর চিকিৎসার খোঁজ নিতে হাসপাতালে যান জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন ও প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আহমদ কায়কাউস।
ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স ও হাসপাতালের প্রধান অধ্যাপক ডা. কাজী দীন মোহাম্মদ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘ইউএনও ওয়াহিদা খানমের মাথায় আঘাতের কারণে হাড় ভেঙে সেটা মস্তিষ্কে ঢুকে গেছে। তাঁর এক পাশ অবশ হয়ে আছে। তাঁকে আইসিইউতে রাখা হয়েছে। আমরা তাঁর অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নিয়েছি এবং রাত ৯টার দিকে অস্ত্রোপচার হতে পারে।’
হাসপাতালে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে আরো ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব, স্বাস্থ্য সচিব আবদুল মান্নান, বিসিএস সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এলজিআরডি সচিব হেলাল উদ্দিন, অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি ও স্থানীয় সরকারের অ্যাডিশনাল সেক্রেটারি মেসবাহ উদ্দিন।
গতকাল বুধবার রাত আড়াইটার দিকে একদল দুর্বৃত্ত মই বেয়ে ইউএনও ওয়াহিদা খানমের সরকারি বাসভবনে প্রবেশ করে। তারা বাসভবনের ভেন্টিলেটর ভেঙে বাসায় ঢুকে ওয়াহিদা খানমকে হাতুড়ি দিয়ে পেটাতে শুরু করে। এ সময় ইউএনওর চিৎকার শুনে পাশের কক্ষে থাকা তাঁর বাবা ছুটে এসে মেয়েকে বাঁচানোর চেষ্টা করলে দুর্বৃত্তরা তাঁকেও আঘাতে জখম করে। পরে কোয়ার্টারের অন্য বাসিন্দারা তাদের চিৎকার শুনে পুলিশকে খবর দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁদের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাঁদের ঢাকায় আনা হয়।
জানা গেছে, নওগাঁ থেকে মাঝেমধ্যে মেয়ে ওয়াহিদা খানমের বাসায় বেড়াতে যেতেন তাঁর মুক্তিযোদ্ধা বাবা ওমর আলী শেখ। ওয়াহিদা খানমের স্বামী রংপুরের পীরগঞ্জে ইউএনও হিসেবে কর্মরত আছেন।
এমআর





