স্বল্পতর সাহিত্যজীবনে নজরুলের বিচিত্র সৃষ্টি বাংলা সাহিত্যে গভীর বিস্ময়-উদ্রেকী ঘটনা। নানা মাত্রার নজরুলকে সঠিকভাবে চিনতে হলে নতুন করে নজরুল পাঠ ও চর্চা অত্যন্ত জরুরি।

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৩৮তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে মঙ্গলবার বাংলা একাডেমি আয়োজিত প্রবন্ধ পাঠ, বক্তৃতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বক্তারা একথা বলেন। বিকাল সাড়ে ৪টায় একাডেমির কবি শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে এ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলা একাডেমির সভাপতি এমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান। 'নজরুলকে আমরা যতটুকু জানি’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কথাসাহিত্যিক আহমাদ মোস্তফা কামাল। প্রখ্যাত নজরুলসংগীত শিল্পী ফাতেমা-তুজ-জোহরার কণ্ঠে উদ্বোধন সংগীতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়।

স্বাগত ভাষণে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান বলেন, স্বল্পতর সাহিত্যজীবনে নজরুলের বিচিত্র সৃষ্টি বাংলা সাহিত্যে গভীর বিস্ময়-উদ্রেকী ঘটনা। নানা মাত্রার নজরুলকে সঠিকভাবে চিনতে হলে নতুন করে নজরুল পাঠ ও চর্চা অত্যন্ত জরুরি।

তিনি বলেন, নজরুলকে চেনার মধ্য দিয়ে আমরা মূলত বাংলা সাহিত্যের এক কালজয়ী-বর্ণিল অধ্যায়কেই অনুধাবন করতে সক্ষম হব।

প্রাবন্ধিক অধ্যাপক আহমাদ মোস্তফা কামাল বলেন, কাজী নজরুল ইসলামকে কেবল কিছু বিশেষ বিশেষণে বন্দি করে অনুধাবন করা সম্ভব নয়। বরং তাকে বুঝতে হলে তার সমগ্রতার স্বরূপ অন্বেষণ করতে হবে। ব্যক্তিগত আবেগকে শিল্পের মধ্য দিয়ে কী করে সমষ্টির অঙ্গীকারে রূপান্তর করা সম্ভব- বাংলা সাহিত্যে নজরুল তার বিরল-ব্যতিক্রমী উদাহরণ। সাহিত্যের মধ্য দিয়ে জনগণমনচিত্তকে প্রবলভাবে আলোড়িত করার ক্ষেত্রে নজরুলের ভূমিকা এখনও বিস্ময়ের জন্ম দেয়।

বিশিষ্ট নজরুল গবেষক এমেরিটাস অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে প্যালেস্টাইনের প্রতি সাম্রাজ্যবাদী ইসরায়েলি বর্বরতার বিরুদ্ধে বিশ্ববিবেকের নীরব ভূমিকার প্রেক্ষিতে কাজী নজরুল ইসলামের প্রাসঙ্গিকতা বিশেষভাবে অনুভূত হয়।

তিনি বলেন, নজরুল তার সাহিত্যজীবনের শুরুতেই প্রথম বিশ্বযুদ্ধের অভিঘাত, আরববিশ্বসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে বৈপ্লবিক উত্থান এবং সাম্রাজ্যবাদী-উপনিবেশবাদী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে জনমানুষের সংগ্রামকে তার কবিতা, গদ্য ও গানে ভাস্বর করেছেন অখণ্ড মানবতার প্রতি গভীর বিশ্বাস, ভালোবাসা ও শিল্পিত অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে।

তিনি আরও বলেন, আগ্রাসন-উপনিবেশ ও সাম্রাজ্যবিস্তারী তৎপরতার বিরুদ্ধে বাংলা সাহিত্যে বৈপ্লবিক চেতনা সঞ্চারে নজরুলের অবদান অসামান্য।

অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, নজরুলের গভীর স্বাদেশিক চেতনা, আন্তর্জাতিকতাবোধ ও সমন্বয়ধর্মী দৃষ্টিভঙ্গি গভীর বিশ্লেষণের দাবি রাখে। নজরুলকে বুঝতে হলে তার বিচিত্রমাত্রিক সত্তার দিকে আমাদের ফিরে তাকাতে হবে।

সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করেন কণ্ঠশিল্পী খালিদ হোসেন, ফাতেমা-তুজ-জোহরা, ইয়াকুব আলী খান এবং ফারহানা শিরিন। যন্ত্রানুষঙ্গে ছিলেন গৌতম মজুমদার (তবলা), গাজী আবদুল হাকিম (বাঁশি), ফিরোজ খান (সেতারা) এবং বিশ্বজিৎ সেন (মন্দিরা)।

আগামীকাল বুধবার সকাল ৭টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়স্থ জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধিতে বাংলা একাডেমির পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে।

ঢাকা, ২৬ আগস্ট, টাইমনিউজবিডি.কম, এআর