পিতা-মাতাকে সেবা যত্ন করার মাঝে কোন মহত্ব নেই। প্রতিটি সন্তানের দায়িত্ব। কিন্তু পিতা মাতার প্রতি দায়িত্ব পালনের কথা শুনলে অনেক সন্তান এখন বিরক্ত হয়ে বলে থাকেন, একই ধরনের তত্ত্ব কথা সবসময় শুনতে ভালো লাগে না। পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব সেটাও এখন তত্ত্ব কথা হয়ে উঠেছে। কি বিচিত্র আমাদের চিন্তা ভাবনা!
আমরা পারি না পিতা-মাতাকে যোগ্য সম্মান দিতে। যদি পারতাম তাহলে আজ বৃদ্ধাশ্রমের দরকার হত না।পিতা-মাতাকে জন্য একটি সিট নিজের ফ্লাটেই বুকিং দিতে পারতাম। অচেনা, অজানা কোন একটি গৃহে থাকতে হতো না জন্মদান কারী পিতা-মাতাকে।
আজ যে পিতা-মাতা তার জীবন বাঁচানোর জন্য রাস্তার ধারে ধারে ঘুড়ে মানুষের কাছে হাত বাড়িয়ে বলে, ‘বাবা দুইটা টাকা দিবেন, সারা দিন ধরে কিছু খাই না,খুব খিদে পাইছে।’
কেনো আজ, পিতা-মাতাকে এই ভাবে অন্যের কাছে হাত বাড়াবে। এ পিতা-মাতা কি সন্তান ছিল না? ছিলো না সন্তানকে নিয়ে বুক ভরা স্বপ্ন? এ পিতা-মাতা অন্য দশ মায়ের মত কষ্ট করে সন্তানকে লালন পালন করেন নি? তবে কেন? কেন আজপিতা-মাতার এ অবস্থা?
একদিন পিতা-মাতাকে আমার প্রয়োজন ছিল। কিন্তু আজ পিতা-মাতা বৃদ্ধ হয়ে গেছে তাই তাদের কোন প্রয়োজন নেই। মনে রাখতে হবে আমি আজ যুবক, কারো হয়তো আমাকে প্রয়োজন আছে, কিন্তু আমিও একদিন বৃদ্ধ হব। তখন আমি কারো প্রয়োজনে নাও আসতে পারি, সেই দিন আমার অবস্থান কোথায় হবে...। হয় বৃদ্ধাশ্রম না হয় রাস্তার পাশে।
কিন্তু এ জীবন আমরা কেউই চাই না, তাই আমাদের উচিৎ মা কিংবা বাবা দিবসে আমাদের এ শিক্ষা নেয়া যে, পিতা-মাতাকে আমাদের ভালোবাসা দিয়ে শিশু অবস্থায় লালন পালন করেছেন, আমরাও যেন পিতা-মাতাকে সেইরূপ ভালোবাসা দিয়ে তাদের মন জয় করতে পারি।
আমাদের কারো মা-বাবা যেন আর বৃদ্ধাশ্রমে না যায়,পথে পথে ঘুরতে না হয়;জীবন বাঁচানোর সংগ্রামে। বৃদ্ধাশ্রমের একটি সিটও যেন আর আমার-আপনার পিতা-মাতার জন্য বরাদ্দ না হয়। পিতা-মাতার স্থান যেন হয় আমাদের হৃদয়ে।
এবি ছিদ্দিক





