জেলার সারিয়াকান্দিতে যমুনা নদীর পানি সোমবার এক সেন্টিমিটার কমে ৬০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। রবিবার সকালে বিপদসীমার ৬১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছিল। কোথাও নতুন করে ভাঙন দেখা যায়নি। ভাঙন রোধে ও ভাঙন ধরলে তাৎক্ষণিক সব ধরনের প্রয়োজনীয় উপকরণ রেখেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।
বগুড়া পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী নূরুল ইসলাম সরকার জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় সোমবার সকালে এক সেন্টিমিটার কমে ৬০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। রবিবার সকালে ৬১ সেন্টিমিটার বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। নতুন করে কোনো এলাকায় ভাঙন দেখা যায়নি। ভাঙন রোধে ও ভাঙন স্থানে মেরামত করাসহ প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি রাখা হয়েছে বলে তিনি জানান।
এদিকে, সারিয়াকান্দির কুতুবপুরের বন্যাকবলিত আজিজার ও খলিল জানান, প্রতি বছর যখন নদীর পানি কমে তখন নতুন করে ব্যাপক আকারে বাঁধ ভাঙে। বাড়িতে পানি প্রবেশ করে ও নতুন নতুন গ্রাম প্লাবিত হয়। তখন আমাদের ক্ষতি আরও বেশি হয়।
সারিয়াকান্দি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা এটিএম বেনজির রহমান জানান, ৯টি ইউনিয়নের ৪৫টি গ্রামে বন্যার পানি ঢুকে এক লাখ ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।
সারিয়াকান্দি উপজেলা কৃষি অফিসার সোহেল মো. শামসুদ্দিন ফিরোজ জানান, চার হাজার ১৭৫ হেক্টর জমির ফসল বন্যার পানিতে আক্রান্ত হয়েছে। এতে ৩৪ হাজার ৭৩০ কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান জানান, বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে সরকারিভাবে পানিবন্দি ১৫০০ পরিবারের জন্য ১৫ টন চাল বরাদ্দ পাওয়া গেছে। তালিকা তৈরি হলেই বরাদ্দ চাল বণ্টন করা হবে।
বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নূরুল ইসলাম সরকার জানান, গত কয়েকদিন পর্যায়ক্রমে সারিয়াকান্দি যমুনার নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নদীর পানি কমে রবিবার সকালে ৬১ সেন্টিমিটার বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আশা করা হচ্ছে এখন ধারাবাহিকভাবে এ নদীর পানি কমবে।
তিনি আরও জানান, সারিয়াকান্দির কুতুবপুরের ধলিরকান্দি থেকে কামালপুরের টিটুর মোড় পর্যন্ত ৮ কিলোমিটার বাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। তার মধ্যে চন্দন বাইশা আদবাড়িয়া স্কুলের কাছ থেকে রৌহাদহ বাজার পর্যন্ত ১২০০ মিটার বাঁধ অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ধরা হয়েছে। বাঁধ যেখানে ভেঙে গেছে সেখানে বালুভর্তি জিওটেক্স বস্তা ফেলা হচ্ছে।
ঢাকা, ২৫ আগস্ট, টাইমনিউজবিডি.কম, জেআই





