গাজীপুরের ভোগড়া বাইপাস এলাকায়জঙ্গি আস্তানায় র্যাবের অভিযানে দুই জঙ্গি নিহত হয়েছে। রোববার রাত ২টায় র্যাবের উপ-পরিচালক মেজর রুম্মান মাহমুদ দুই জঙ্গির লাশ উদ্ধারের কথা নিশ্চিত করেছেন।
রাতেই ঘটনাস্থলে র্যাবের মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক মুফতি মাহমুদ খান অভিযানের বিষয়ে সাংবাদিকদের অবহিত করেন। এ সময় তিনি জঙ্গি আস্তানা থেকে তিনটি বোমাসহ বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানান। তাৎক্ষণিকভাবে জানা গেছে, নিহত দুই জঙ্গির নাম মিনহাজ ও মাহবুব।
রোববার রাত সাড়ে ১০টার দিকে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গাজীপুর বাইপাস চৌরাস্তা থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে ভোগড়া মোড়সংলগ্ন যোগিতলা গ্রামের একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে এ অভিযান শুরু হয়।
এ সময় র্যাবকে লক্ষ্য করে বোমা হামলা চালায় জঙ্গিরা। আত্মরক্ষার্থে র্যাব পাল্টা গুলি করে। এ সময় বোমার আঘাতে র্যাবের এক সদস্য আহত হন।
এর আগে র্যাব-১ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল তুহিন মোহাম্মদ মাসুদ জানান, যোগিতলার ওই পরিত্যক্ত বাড়িটির পাশে একটি মসজিদ আছে। মুসল্লিরা প্রায়ই সেখানে নতুন নতুন লোকদের আসতে দেখতেন। বিষয়টি তারা র্যাবকে জানান।
র্যাবের গোয়েন্দারা এ তথ্য পেয়ে ওই বাড়িটির ওপর নজরদারি শুরু করেন। পাশাপাশি কারা এ বাড়িতে আসা যাওয়া করেন তাদের প্রযুক্তির আওতায় নিয়ে আসেন।
তিনি আরও জানান, বাড়িটিতে রোববার ২-৩ জন লোক এসে অবস্থান করছেন- এমন তথ্য নিশ্চিত হয়ে র্যাবের টিম সেখানে ছুটে যায়। এ সময় র্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে জঙ্গিরা পরিত্যক্ত বাড়ির ভেতর থেকে বলতে থাকেন, ‘আপনারা কারা এখান থেকে চলে যান। না গেলে আমরা চ্যালেঞ্জ করব।’
অভিযানে অংশ নেয়া একজন র্যাব কর্মকর্তা বলেন, ভেতর থেকে লোকজনের আওয়াজ পেলে র্যাব সদস্যরা পুরোদমে প্রস্তুতি নিয়ে সামনের দিকে এগোতে থাকেন। এ সময় র্যাবের ওপর বোমা নিক্ষেপ করে জঙ্গিরা। র্যাব পাল্টা গুলি চালায়।
র্যাবের গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান লে. কর্নেল আবুল কালাম আজাদ বলেন, এলাকার লোকজনের কাছে পাওয়া আগের তথ্য হাতে নিয়ে র্যাব গোয়েন্দা নজরদারি শুরু করে। প্রাপ্ত তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য কিছু বিষয় পর্যালোচনাও করে।
একপর্যায়ে পরিত্যক্ত ওই বাড়ির পাশে থাকা মসজিদে র্যাবের কয়েকজন সদস্য সাদা পোশাকে কিছুদিন ধরে নামাজ পড়তে যান। এ ধরনের কৌশলের পর সেই বাড়িতে নতুন নতুন লোক আসার বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে পরে প্রযুক্তিগত তদন্ত শুরু করে। পরিত্যক্ত বাড়িতে আসা লোকজন আসলে জঙ্গি নাকি অন্য কেউ তা নিশ্চিতের পর রোববার অভিযান চালানো হয়।
এদিকে বৃহস্পতিবার মিরপুরের শাহ আলী থানার একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তিন জেএমবি সদস্যকে গ্রেফতারের পাশাপাশি ১৬টি ‘হাতে তৈরি গ্রেনেড’ ও বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক উদ্ধার করে পুলিশ।
অপরদিকে জেএমবির আস্তানার সন্ধান পাওয়ার কথা জানিয়ে শনিবার গভীর রাতে চট্টগ্রামের হাটহাজারীর একটি বাসায় অভিযান শুরু করে পুলিশ। ভোর পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে সেখান থেকে একটি অত্যাধুনিক এমকে-১১ স্নাইপার রাইফেল, ২৫০ রাউন্ড গুলি, দুই কেজি জেল বিস্ফোরক, ১৪টি সেনা পোশাক, বোমা তৈরির বিপুল পরিমাণ সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে ডিবি পুলিশ।
এআই





