বরিশাল ব্রজমোহন (বিএম) কলেজের আবাসিক ছাত্রদের ওপর বহিরাগতদের হামলার প্রতিবাদে সঙ্গে ছাত্রদের সংঘর্ষ হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বেলা ১২টার দিকে এ সংঘর্ষ হয়। এতে ইসলামের ইতিহাস বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র সালাউদ্দিন, বাংলা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র রহমান, সমাজ কল্যাণ চতুর্থ বর্ষের ছাত্র মামুন ও গণিত প্রথম বর্ষের ছাত্র রাকিবসহ ৫ জন আহত হয়।

মাস্টার্স শেষ বর্ষের ছাত্র মনিরুজ্জামান জানান, গত মঙ্গলবার কলেজ ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত গ্রামীণ ফোনের একটি অনুষ্ঠানে বহিরাগত সামিউল, রনিসহ বেশে কয়েকজন যুবক কলেজের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র নাসিমকে বেধড়ক মারধর করে।

এ ঘটনার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় ক্যাম্পাসে মহাত্মা অশ্বিনী কুমার ছাত্রাবাসের শিক্ষার্থীদের আয়োজনে মানববন্ধন ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় কতিপয় বহিরাগত যুবক ও কলিজেয়েট স্কুলের ছাত্রদের সঙ্গে ইভটিজিংকে কেন্দ্র করে ইসলামের ইতিহাস বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র সালাউদ্দিনের কথা কাটাকাটি হয়। পরে সাধারণ ছাত্ররা তাদের কলেজ থেকে বের হয়ে যেতে বলে।

এর কিছুক্ষণ পরেই কলেজছাত্র সৈকত, পিয়াল ও তানজীল এসে ছাত্রদের কাছে মানববন্ধন করার কারণ জানতে চায়। একই সময় বহিরাগত ছাত্ররা তাদের সঙ্গে জোট বেঁধে সালাউদ্দিনকে মারধর করে পুকুরে ফেলে দেয়।

তিনি আরও জানান, ছাত্রাবাসের শিক্ষার্থীরা এ খবর জানতে পেরে হল থেকে বেড়িয়ে বহিরাগত ছাত্রদের ধাওয়া দেয়। এতে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাখাওয়াত হোসেন জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ এক রাউন্ড ফাকা গুলি ছোড়ে। এ সময় সৈকত নামে একজন বহিরাগতকে আটক করা হয় বলে জানান তিনি।

কলেজের অধ্যক্ষ ফজলুল হক জানান, কয়েকদিন আগে বহিরাগত ছাত্ররা কলেজের এক ছাত্রকে মারধর করলে তার প্রতিবাদে হলের ছাত্ররা ক্যাম্পাসে মানববন্ধন ও মিছিল করে।

মানববন্ধনের খবর পেয়ে তিনি ছাত্রদের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারেন, প্রতি রাতেই হলের ছাদে এসে বহিরাগতরা মাদক সেবন করে। এসব বহিরাগতরা বিভিন্ন সময় হলের ছাত্রদের কাছে চাঁদা দাবি করে থাকে ও ছেলে-মেয়েসহ সব শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ধরনের হয়রানি করে।

বিষয়টি পুলিশ প্রশাসনকে জানিয়ে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিলে ছাত্ররা হলে ফিরে যায়।

তিনি আরও জানান, বর্তমানে ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে পুলিশকে কঠোর ভূমিকা পালনের জন্য বলা হয়েছে।

এদিকে, বহিরাগতরা হলের ছাত্রদের ধাওয়া খেয়ে আশ্রয়ের নামে কলেজ ক্যান্টিনে প্রবেশ করে সেখানে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। তারা ক্যান্টিনে থাকা নগদ ১৮ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে গেছে বলে জানান ক্যান্টিন পরিচালনাকারী বাবু।

ঢাকা, ১৮ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম, এএইচ