নাজিম উদ্দিন রোড থেকে এক দিনেই সব বন্দিকে কেরানীগঞ্জের নতুন কেন্দ্রীয় কারাগারে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন কারা-মহাপরিদর্শক সৈয়দ ইফতেখার উদ্দিন।

শুক্রবার ঢাকার কারা অধিদপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, কর্মী ও তাদের সরঞ্জাম পর্যায়ক্রমে স্থানান্তর করা হলেও বন্দিদের সরানো হবে এক দিনে।

“পর্যায়ক্রমে স্থানান্তর করা হলে দুই জায়গার নিরাপত্তার বিষয়টি দেখতে হবে। এমনিতেই যথেষ্ট কারারক্ষী নেই। তাই একদিনে বন্দি স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”

আগামী   রোববার কেরানীগঞ্জের নতুন কেন্দ্রীয় কারাগারের উদ্বোধন উপলক্ষে কারা অধিদপ্তর এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।

সংবাদ সম্মেলনে কারা-মহাপরিদর্শক বলেন, “কেন্দ্রীয় কারাগারে বর্তমানে আট হাজারের মতো বন্দি আছে। এর মধ্যে নারী বন্দিদের কাশিমপুর কারাগারে আর বাকিদের কেরানীগঞ্জের নতুন কারাগারে পাঠানো হবে।

“একদিনে এতো বন্দি স্থানান্তর করতে প্রায় ২ হাজার ৫০০ প্রিজন ভ্যান দরকার। সারাদেশের ৬৮ কারাগারের সব প্রিজনভ্যান আনলেও সেই সংখ্যা হবে না। তারপরও আমরা একদিনেই বন্দিদের স্থানান্তর করব এবং সেটি অবশ্যই ছুটির দিনে হবে।”

কোন তারিখে বন্দি স্থানান্তর হবে সে সিদ্ধান্ত সমম্বয় কমিটির সঙ্গে বৈঠক করে নেওয়া হবে বলে ইফতেখার জানান।

“আমরা এপ্রিল মাসের মধ্যে কেরানীগঞ্জে যেতে চাই। যতো তাড়াতাড়ি হবে ততোই ভাল।”

কারাগারগুলোকে আরও ‘প্রযুক্তিবান্ধব’ করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

“মোবাইল জ্যামার বসানো হয়েছে। ফলে বন্দিরা আর মোবাইলে কথা বলতে পারবে না। নতুন কারাগারের পাশাপাশি কাশিমপুরেও লাগেজ স্ক্যানার আর পার্সোনাল স্ক্যানার কেনার প্রস্তাব দিয়েছি।”

১৭ একর আয়তনের পুরনো কারাগার থেকে ৩১ একরের নতুন কারাগারে যাওয়ার পর নিরাপত্তায় কোনো সমস্যা হবে কী না- এ প্রশ্নে মহাপরিদর্শক প্রয়োজনের তুলনায় কম কারারক্ষী থাকার কথা স্বীকার করেন।

তিনি বলেন, “নতুন লোকবল চাওয়া হয়েছে। অনুমোদন পেলে ওই সমস্যা দূর হয়ে যাবে।”

নতুন কারাগারে কারারক্ষীদের থাকার কোনো সমস্যা হবে না বলেও জানান তিনি।

“আমাদের সাড়ে ৭শ’ কারারক্ষী আছেন। বিভিন্ন হাসপাতালে বন্দিদের জন্য প্রায় আড়াইশ’ কারারক্ষীকে রাজধানীতে থাকতে হবে। বাকি ৫শ’ কারারক্ষীর থাকার ব্যবস্থা সেখানে (কেরানীগঞ্জে) রয়েছে।”

নতুন স্থানে গেলে ‘প্রথম প্রথম কিছু সমস্যা হবে’ মন্তব্য করে কারা-মহাপরিদর্শক বলেন, পরে আস্তে আস্তে তা ঠিক হয়ে যাবে।

নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো কারাগারের জমিতে ভবিষ্যতে পার্ক, ট্রেনিং ইনস্টিটিউট, ব্যয়ামাগার ও কনভেনশন সেন্টার নির্মাণ করা হবে এবং সেজন্য প্রধানমন্ত্রী দপ্তরের একজন অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে একটি কমিটি করা হয়েছে বলে জানান মহাপরিদর্শক ।

এম আর