প্রেমের টানে বাংলাদেশিকে বিয়ে করতে অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে আসার জন্য জেল খেটে অবশেষে দেশে ফিরে যেতে হলো ভারতীয় এক তরুণীকে।
পশ্চিমবঙ্গেরনদীয়ার মেয়ে পম্পা মণ্ডল। কুষ্টিয়ার সীমান্তের এক গ্রামে ধর্মদহের আমজাদ আলী নামের একজনের সাথে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
সে তাকে বিয়ে করতে কুষ্টিয়া চলে আসে। কিন্তু অবৈধভাবে প্রবেশের জন্য তাকে গ্রেফতার করে বিজিবি। তাকে ১৫ দিনের জেলও দেয়া হয়। কিন্তু জেলে থাকতে হয়েছে ছয় মাস।
কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক সৈয়দ বেলাল হোসেন জানিয়েছেন ভারতে ফিরিয়ে দেয়ার আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ায় ভারতের দিক থেকে বিলম্বের কারণে তাকে ছয় মাস জেলে থাকতে হয়েছে।
দুটি মানবাধিকার সংস্থার সহায়তায় তার ফিরে যাওয়ার প্রক্রিয়া শেষে আজ সোমবার তাকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক।
কুষ্টিয়া কারাগার থেকে বের হওয়ার পর পম্পা মণ্ডলকে চুয়াডাঙ্গার দর্শনা সীমান্তে নেওয়া হয়। সেখানে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) মাধ্যমে তাকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
কারাগার থেকে বের হয়ে পম্পা মণ্ডল বলেন, ‘ইন্ডিয়া আমার কাছে ভালো লাগে। তারপরও আমজাদকে ভালো লেগেছিল। বিয়েও হয়েছিল। কিন্তু এখন ভাগ্যের লিখনে দেশে চলে যেতে হচ্ছে।’
পম্পা মণ্ডলকে ভারতে ফেরত পাঠানোর ব্যাপারে ভারতীয় মানবাধিকার সংস্থা ‘সংলাপ’ও বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট) কাজ করেছে। ব্লাস্ট, পুলিশ ও কুষ্টিয়া কারাগার সূত্রে জানা গেছে, কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ধর্মদহ গ্রামের আমজাদ আলীর সঙ্গে পম্পার কয়েক বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। পম্পার বাড়ি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার মুরুটিয়া থানার শিকারপুর গ্রামে। গত ১৪ মে তিনি বাড়ির পাশের হাঁটুপানির মাথাভাঙ্গা নদী পাড়ি দিয়ে আমজাদের কাছে আসেন। দুজনে বিয়ে করে সংসার শুরু করেন।
পম্পা বাড়ি ছেড়ে চলে আসার পরপরই তার বড় ভাই অনুপ মণ্ডল স্থানীয় মুরুটিয়া থানায় আমজাদের বিরুদ্ধে অপহরণ মামলা করেন। একই সঙ্গে তিনি কলকাতায় 'সংলাপ' নামে একটি মানবাধিকার সংগঠনকে বিষয়টি জানান। পরে 'সংলাপ' কর্তৃপক্ষ ঘটনাটি বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতিকে জানিয়ে পম্পাকে উদ্ধারে সহায়তা কামনা করে। ২৪ দিন সংসার করার পর মানবাধিকার কর্মীদের সহায়তায় পুলিশ তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। তাকে অবৈধভাবে সীমান্ত পার হওয়ার দায়ে আদালতে পাঠায় পুলিশ। বিনা পাসপোর্টে সীমান্ত পাড়ি দেওয়ার দায়ে আদালত তাকে ১৫ দিনের সাজা দেন।
কারা তত্ত্বাবধায়ক মকলেছুর রহমানের ভাষ্য, সাজার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তাকে দেশে ফেরত পাঠানোর অনেক চেষ্টা করা হয়েছিল। গত ৯ নভেম্বর দর্শনা সীমান্তে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেখানে তার পরিবার না আসায় তাকে ফেরত না পাঠিয়ে আবার কারাগারে নেওয়া হয়েছিল।
এমএ





