আট দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে বুধবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে মারা যান চাঁদপুরের চন্দ্রায় পেট্রোলবোমায় দগ্ধ গরুর রাখাল খোরশেদ (৩২)।
বৃহস্পতিবার সকালে লাশ যশোরের শার্শা উপজেলার বাগআঁচড়ার বাড়িতে পৌঁছানোর পর স্বজনদের আহাজারিতে এলাকার আকাশ-বাতাস ভারি হয়ে উঠে। এ সময় সেখানে এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারণা ঘটে। তার অকাল মৃত্যুতে বাগআঁচড়াসহ আশপাশের এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।
পেট্রোলবোমায় দগ্ধ খোরশেদকে এক নজর দেখার জন্য তার বাড়িতে হাজার হাজার মানুষের ঢল নামে। তার বীভৎস লাশ দেখে অনেকেই কেঁদে ফেলেন। ধিক্কার জানান অপরাধীদের। একমাত্র উপার্জনক্ষম খোরশেদের অভাব-অনটনের সংসার। এ কারণে যখন যে কাজ পান, তখন সেই কাজ করে থাকেন। স্ত্রী-সন্তানসহ সংসারের সবাইকে নিয়ে অতি কষ্টে দিনাতিপাত করতেন।
১৭ মার্চ বাগআঁচড়া সাতমাইল পশুহাট থেকে গরুর রাখাল হিসেবে ট্রাকে যাওয়ার জন্য স্ত্রী আয়শা খাতুনসহ পরিবারের সকলের কাছ থেকে বিদায় নেন খোরশেদ। কিন্তু তিনি নিজে বা তার পরিবারের কেউ জানতেন না, এ যাওয়াই তার শেষ যাওয়া হবে। ৮/৯ দিন পর তিনি বাড়িতে ফিরলেন তবে জীবিত নয়, পেট্রোলবোমার আগুনে দগ্ধ হওয়া বীভৎস লাশ হয়ে।
১৮ মার্চ চাঁদপুরের চান্দ্রা চৌরাস্তায় দুর্বৃত্তরা ট্রাকে পেট্রোলবোমা হামলা চালায়। এতে ট্রাকে থাকা চালক বাগআঁচড়া বাগুড়ী বেলতলা এলাকার সুরত আলী মোড়লের ছেলে জাহাঙ্গীর ঘটনাস্থলেই মারা যান। মারাত্মক দগ্ধ হন খোরশেদসহ তিনজন। তাদের মধ্য ট্রাকের মালিক ঝিকরগাছার উপজেলার বারবাকপুর গ্রামের সাহাবুদ্দীন খন্দকারের ছেলে শরিফ খন্দকার মারা যাওয়ার পর মৃত্যুর মিছিলে খোরশেদের নাম যোগ হয়।
খোরশেদের অসহায় স্ত্রী আয়শা খাতুন জানান, দীর্ঘদিন অবরোধ-হরতালের কারণে পরিবারে অভাব দেখা দেয়। এ ছাড়া বিভিন্ন এনজিওসহ পাড়া-প্রতিবেশীদের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে দেনা হয়ে পড়ে সে। অভাবের তাড়নায় স্ত্রী-সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে সে বাগআঁচড়া সাতমাইল পশুহাট থেকে গরুর রাখালের কাজ নিয়ে চট্টগ্রাম যায়। কিন্তু ফিরে আসে লাশ হয়ে।
জেএ





