সংগঠনটির দাবি, বাস ও মিনিবাসে প্রায় দুই লাখ ৩৪ হাজার যাত্রীর কাছ থেকে অতিরিক্ত ৫ কোটি ৬২ লাখ টাকা আদায় করা হয়েছে।
সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, পরিবহন মালিকদের ঘোষণা সত্ত্বেও রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় দূরপাল্লা ও সিটিসার্ভিস বাসে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় চলছে। একই ধরনের পরিস্থিতি নৌপথেও দেখা যাচ্ছে।
সংগঠনটি জানায়, পরিবহন শ্রমিকদের বেতন ও ঈদ বোনাস যথাযথভাবে কার্যকর না হওয়ায় অনেক চালক ও হেলপার অতিরিক্ত ভাড়া নিতে বাধ্য হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন।
যাত্রী কল্যাণ সমিতির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বিভিন্ন রুটে নির্ধারিত ভাড়ার তুলনায় অনেক বেশি টাকা নেওয়া হচ্ছে।
- ঢাকা-খুলনা রুটে ৫৪১ টাকার ভাড়া নেওয়া হচ্ছে ১ হাজার টাকা
- ঢাকা-বরিশাল রুটে ৫৯২ টাকার ভাড়া আদায় করা হচ্ছে ৮৫০ টাকা
- ঢাকা-পটুয়াখালী রুটে ৫৭০ টাকার ভাড়া নেওয়া হচ্ছে ১ হাজার টাকা
- ঢাকা-শরীয়তপুর রুটে ২৩৩ টাকার ভাড়া আদায় করা হচ্ছে ৫০০ টাকা
- চট্টগ্রাম-বরগুনা রুটে ১ হাজার ১৯৭ টাকার ভাড়া নেওয়া হচ্ছে ১ হাজার ৮০০ টাকা
- চট্টগ্রাম-গাইবান্ধা রুটে ১ হাজার ১০০ টাকার ভাড়া আদায় করা হচ্ছে ২ হাজার ২০০ টাকা
এছাড়া ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-ফেনী, ঢাকা-কুমিল্লা, ঢাকা-যশোর, ঢাকা-কুষ্টিয়া, ঢাকা-পিরোজপুরসহ আরও বিভিন্ন রুটে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সমিতির দাবি, কিছু পরিবহনে ৫২ আসনের বাসকে ৪০ আসনের বাস হিসেবে দেখিয়ে বাড়তি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। আবার স্বল্প দূরত্বের যাত্রীদের কাছ থেকেও পুরো রুটের ভাড়া নেওয়া হচ্ছে।
তবে সরকারের কঠোর অবস্থান ও কিছু পরিবহন মালিকের তৎপরতার কারণে গত ঈদুল ফিতরের তুলনায় এবারের পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলেও জানিয়েছে সংগঠনটি।
সংগঠনটি আরও বলেছে, নিম্ন আয়ের অনেক মানুষ কম খরচে যাতায়াতের জন্য বাস ও ট্রেনের ছাদ, পণ্যবাহী ট্রাক কিংবা খোলা ট্রাকে ভ্রমণ করছেন, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় গণপরিবহনে ডিজিটাল ভাড়া আদায় ব্যবস্থা চালু, নগদ লেনদেন কমানো, চালকদের বেতন ও ঈদ বোনাস নিশ্চিত এবং সড়কে সিসি ক্যামেরাভিত্তিক ই-প্রসিকিউশন চালুর সুপারিশ করেছে যাত্রী কল্যাণ সমিতি।
এস