টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে পুলিশের সঙ্গে এলাকাবাসীর সংঘর্ষে চার ‍জন নিহত হওয়ার ঘটনায় জড়িত সকল পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার নয়, মানুষ হত্যার দায়ে ফৌজদারি আইনে বিচারের আওতায় এনে দণ্ডিত করতে হবে। তা না হলে তারা বার বার এই কাজটাই করবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান।

তিনি বলেন, ‘পুলিশকে সরকার অস্ত্র দিয়েছে জনগণের জীবনের নিরাপত্তা দিতে। অন্যায়ভাবে নিরীহ জনগণের ওপর গুলি চালানোর জন্য নয়।

কিন্তু পুলিশ সন্ত্রাসীদের মতো নির্বিচারে অন্যায়ভাবে নিরীহ জনগণের ওপর গুলি বর্ষণ করে মানুষ হত্যা করেছে। তাদের শুধু প্রত্যাহার করে নেওয়াই যথেষ্ট নয়। তাদেরকে মানুষ খুনের অপরাধে দণ্ডিত করতে হবে। আমরা এর দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক বিচার দেখতে চাই।’

সোমবার বেলা সাড়ে ১১টায় টাঙ্গাইল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ঘাটাইলের সেই নির্যাতিত মা-ছেলের সঙ্গে কথা বলার পর সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। এর আগে সকাল সাড়ে ১০টায় তিনি টাঙ্গাইল সার্কিট হাউজে পৌঁছান।

তিনি বলেন, ‘আমি যদি ওইদিন থাকতাম তাহলে আমিও ওই কালিহাতীর বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নিতাম। মানুষ কত পাষণ্ড হলে এমনভাবে নির্যাতন করে। আমরা এখন এক অসভ্য সমাজে বসবাস করছি।

যেভাবে মা-ছেলেকে সমাজের কাছে হেয় প্রতিপন্ন করে তাদের মান সন্মান ধুলিসাৎ করে দেওয়া হয়েছে তা দেখে পুরো জাতি স্তম্ভিত। সাধারণ মানুষ এই অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছে। আর পুলিশ সেই অন্যায়ের প্রতিবাদকারী সাধারণ জনগণের ওপর নির্বিচারে গুলি বর্ষণ করে। এটা পুলিশের ঔদ্ধত্যমূলক আচরণ।’

তিনি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ওই সব ব্যক্তিদের দ্রুত বিচারের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান। যাতে করে ভবিষ্যতে আর কেউ এ ধরনের অপরাধ করতে সাহস না করে।

ড. মিজানুর রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের পক্ষ থেকে নির্যাতিতদের সকল প্রকার সহযোগিতা করা হবে।’

এর পরে তিনি কালিহাতীর উদ্দেশে রওনা হন। সেখানে কালিহাতী ও ঘাটাইলে নিহতদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলবেন। এসময় তার সঙ্গে ছিলেন টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক মো. মাহবুব হোসেন, ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার সঞ্জয় সরকারসহ অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ।

এমকে