দেশের রাজনীতিতে ‘ভারতবিরোধী ধুয়া’ মানুষ প্রত্যাখ্যান করেছে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা গওহর রিজভী বলেছেন, এখন বিএনপিও ভারতকে ট্রানজিট দেওয়ার বাস্তবতা মেনে নিয়েছে।

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ককে দেশের ‘অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের’ অংশ হিসেবে কিছু রাজনৈতিক দল বারবার ভোটের ইস্যু হিসেবে ব্যবহার করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

শনিবার দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে এক আলোচনায় গওহর রিজভী বলেন, “আমাদের জন্য এটা সুখের বিষয় যে, ভোটাররা এটা প্রত্যাখ্যান করেছে। গত কয়েকটা নির্বাচনে দেখা গেছে, ভারতকে ভোটের ইস্যু করা আর ভোটারদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।

“আমরা ভালোভাবেই এটা থেকে বের হয়ে এসেছি। বর্তমানে ভারতের প্রতি কতগুলো বিষয়ে আমরা আগের থেকে বেশি ঐক্যেমতে পৌঁছেছি। আজ আমাদের অভ্যন্তরীণ ঐক্য রয়েছে।

ফ্রেন্ডস অব বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে অর্থনৈতিক সহযোগিতা বিষয়ক এক প্যানেলে ‘ভারত-বাংলাদেশ সংলাপে’ এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক বিষয়ক এই উপদেষ্টা।

ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির সাধারণ সম্পাদক রাম মাধবসহ দুই দেশের সাবেক কূটনীতিক, শিক্ষাবিদ ও সাংবাদিকসহ অন্যরা দুই দিনের এই সংলাপে অংশ নেন।

শেষ দিনের আলোচনায় বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে অমীমাংসিত কোনো সমস্যা নেই জানিয়ে গওহর রিজভী বিষয়গুলোকে ‘অবহেলা’ এবং ‘বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ঐক্যের অভাব’ বলে মত দেন।
“ট্রানজিট, কানেক্টিভিটি আর অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়; এখানে ঐক্যমত এসেছে। এমনকি বিএনপি পর্যন্ত এই বাস্তবতা মেনে নিয়েছে।

দুই দেশের এই সম্পর্ক উন্নয়নের সব কৃতিত্ব প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দিয়ে রিজভী বলেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিন থেকে তিনি (শেখ হাসিনা) ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নকে ‘এক নম্বরে’ রেখেছিলেন।

দারিদ্র্যকে ‘দুই দেশেরই শত্রু’ হিসেবে চিহ্নিত করে ‘ভারতকে দূরে রেখে এই অঞ্চলকে দারিদ্র্যমুক্ত করা সম্ভব নয়’- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিষয়টি অনুধাবন করেছিলেন বলে মন্তব্য করেন তার আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা।
সংলাপে তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তির বিষয়টি এখন ভারতের ওপর নির্ভর করছে মন্তব্য করে পানিবণ্টন নিয়ে ঝুলে থাকা চুক্তির আগে এ নিয়ে নতুন কোনো চুক্তির বিষয়ে আর আলোচনা হবে না বলে জানান গওহর রিজভী।

তিনি বলেন, “এটা (চুক্তি স্বাক্ষর) এখন সময়ের ব্যাপার। নতুন কোনো ঐক্যমতের বিষয়ে আলোচনা হবে না।

পানি বণ্টনের মতো বিষয় দ্বিপক্ষীয় বা জাতীয়ভাবে সমাধান করা যাবে না মত প্রকাশ করে বিষয়টির জন্য উপ-আঞ্চলিক ঐক্যের প্রয়োজন বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা।

দুই দেশের মধ্যে ৫৪টি অভিন্ন নদীর বিষয়ে গওহর রিজভী বলেন, “এটার জন্য উপ-আঞ্চলিক ঐক্য প্রয়োজন। আমরা নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে প্রতিটি নদীর অববাহিকা ভিত্তিক ব্যবস্থাপনায় এগিয়ে যাব।

গত বছর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাংলাদেশ সফরের সময় দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা স্থল সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়ন হয়।

জুনে ওই সফরের সময় তিস্তার পানি বণ্টন নিয়ে ‘ন্যায্য সমাধান সম্ভব’ বলে জানিয়েছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী।

এআইজে