দিনাজপুরে ১৩ বছরের এক কিশোরীকে গণধর্ষণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় স্থানীয়রা দুই যুবককে ধরে পুলিশের কাছে সোপর্দ করলেও, পরে পুলিশ তাদের ছেড়ে দিয়েছে বলে দাবি নির্যাতিতার পরিবারের।
তবে, পুলিশ বলছে, আটক দু'জনকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। ধর্ষণের ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করেছে নির্যাতিতার পরিবার।
নির্যাতিতা জানায়, গত ১৮ জুন নিজের বাড়ি থেকে মুখ চেপে তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায় একই এলাকার সদর উপজেলার রাব্বি, রনিসহ অজ্ঞাত আরও দুই যুবক। পরে পালাক্রমে তাকে ধর্ষণ করা হয়। পরে নির্যাতিতার বাবা-মা বাড়ির পাশের একটি ভুট্টাক্ষেত থেকে অজ্ঞান অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে।
ঘটনার শিকার কিশোরী বলেন, 'যখন আমাকে চেপে ধরে তখন চারজন যুবক ছিল। তখন আমি কিছুই বলতে পারি না। যখন আমার জ্ঞান ফিরে আসে তখন দেখি আমার মাথায় পানি ঢালা হচ্ছে।'
এ ঘটনার পরপরই এলাকাবাসী রাব্বি ও রনিকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। কিন্তু স্থানীয়ভাবে বিচারের আশ্বাস দিয়ে তাদের ছেড়ে দেয়া হয় বলে অভিযোগ নির্যাতিতার ভাইয়ের। এছাড়া এ ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হলেও, নির্যাতিতার পরিবারের অভিযোগ, তাদের বারবার মামলা প্রত্যাহারের জন্য হুমকি দেয়া হচ্ছে।
কিশোরীর স্বজনরা বলেন, 'আমরা ওই তিন ছেলেকে ধরেছি। তাদের মারধর করি পরে পুলিশ তাদের ধরে নিয়ে যায়। পরে পুলিশ তাদের ছেড়ে দেয়। বিচারের কথা বলে বিচারে বসেনি। পরে আমরা থানায় মামলা করেছি। আমাদের সব সময় হুমকি দেয়া হচ্ছে। আমরা এর বিচার চাই।'
তবে আটক দু'জনকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং বাকি দু'জনকে আটক করতে অভিযান অব্যাহত আছে বলে জানালেন দিনাজপুরের কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) আবুল হাসনাত।
তিনি বলেন, 'মামলার মূল দুই আসামিকে রাব্বি এবং রবিনকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। অজ্ঞাত আরও দুইজন আছে তাদের নাম আমরা চিহ্নিত করেছি। মামলাটি তদন্ত করা হচ্ছে।'
এদিকে, চিকিৎসক জানান কিশোরীর সব ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষ হলেও এখনো রিপোর্ট এসে পৌঁছায়নি।
গত ২০ জুন নির্যাতিতার মা বাদী হয়ে ৪জনকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
জেআই





