বাংলাদেশে নিযুক্ত মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত উ উয়েন লুউইনকে ফের তলব করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আজ (শনিবার) দুপুরে তাকে তলব করা হয়। এসময় গতকালের (শুক্রবার) ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে নিহতের লাশ ফেরত চেয়েছে বাংলাদেশ।
দুই দেশের সীমান্তে সাম্প্রতিক উত্তেজনা ও এক বিজিবি সদস্যকে ধরে নিয়ে যাওয়ার প্রতিবাদে শনিবার সকালে দেশটির রাষ্ট্রদূতকে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় তলব করা হয়। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পদ্মায় আসেন মায়ানমারের রাষ্ট্রদূত।
জানা যায়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে মায়ানমারের রাষ্ট্রদূত শিকার করেন তাদের কাছে এক বিজিবি সদস্যের লাশ রয়েছে। চূড়ান্তভাবে ওই লাশ শনাক্তের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। অন্যদিকে, বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে মায়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে হুঁশিয়ারি দিয়ে এ ধরনের ঘটনা যেন ভবিষ্যতে আর না ঘটে সে ব্যাপারে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গতকাল শুক্রবার মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড পুলিশ (বিজিপি) নির্বিচারে গুলিবর্ষণ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ওপর। জবাবে বিজিবিও পাল্টা গুলি ছুড়েছে। প্রায় আড়াইঘণ্টা ধরে উভয় পক্ষের মধ্যে গুলি বিনিময় হয়।
এদিকে, বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির দোছড়ি সীমান্তে বিজিবি ও বিজিপির মধ্যে উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করেছে। শুক্রবারের গুলি বিনিময়ের পর মিয়ানমারের সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর সদস্যরা ভারী অস্ত্র ব্যবহার করছে। দোছড়ি সীমান্তে বিজিবি ও বিজিপি নিজ নিজ সীমান্তে নিরাপত্তা আরো জোরদার করেছে।
শনিবার সকাল থেকে বিজিবি অবজারভেশন পোস্টে (বিওপি) সেনা সদস্যসহ আরো প্রায় দেড় শতাধিক বিজিবি সদস্য মোতায়েন করে। খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি কক্সবাজার চট্টগামের বিভিন্ ব্যাটালিয়ন থেকে তাদের আনা হয়। আপরদিকে, মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী বাহিনীও তাদের সীমান্তেও অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করেছে।
এ পরিস্থিতিতে উখিয়া-নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকায় বসবাসকারী লোকজনের মধ্যে বিরাজ করছে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা। ফলে উভয় দেশের সীমান্ত এলাকা জনশূন্য হয়ে পড়েছে। আতঙ্কে পাইনছড়ি এলাকার আশপাশের পাড়াগুলোর লোকজন নিরাপদ জায়গায় আশ্রয় নিয়েছেন।
এর আগে গত বুধবার মিয়ানমারের সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড পুলিশ (বিজিপি) সদস্যদের গুলিতে নিহত হন বিজিবির নায়েক সুবেদার মিজানুর রহমান। শুক্রবার তার লাশ ফেরত দেয়ার কথা থাকলেও তা না দিয়ে উল্টো গুলি বর্ষণ করে বিজিপি। পাল্টা গুলি চালায় বিজিবি।  
এদিকে, গুলিবিদ্ধ বিজিবি সদস্যকে ফেরত দেয়নি মিয়ানমার। বান্দরবান নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তের পানছড়ি ৫২ নম্বর পিলার এলাকায় মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী বাহিনী-বিজিপির সঙ্গে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-বিজিবির গুলিবিনিময়ে নিহত হন বিজিবি সদস্য মিজানুর রহমান।
[b]ঢাকা, ৩১ মে (টাইমনিউজবিডি.কম) // কেবি[/b]