জামায়াতে ইসলামী যশোর জেলা শাখার আমীর ও বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক আব্দুর রশীদ আবারও আটক হয়েছেন।
গতকাল বুধবার বেলা ১১টায় একটি মিথ্যা মামলায় জামিন লাভের পর জেল থেকে বের হলে কোতয়ালী থানা পুলিশ কোন মামলা ছাড়াই তাকে আটক করে এবং আরেকটি মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে আদালতে প্রেরন করেছে।
আদালত তাকে জেল থেকে মুক্তি পাবার ৫ ঘণ্টা পর আবারও জেলে প্রেরণ করেছে। এ নিয়ে অধ্যাপক আব্দুর রশীদকে তিনবার আটক করা হলো এবং এনিয়ে তাকে ৭টি মিথ্যা মামলায় জড়ানো হলো।
একজন প্রবীণ রাজনীতিক ও শিক্ষাবিদকে বাববার আটক ও মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করার তীব্র নিন্দা ও বিষ্ময় প্রকাশ করেছে বিভিন্ন মহল।
জামায়াত নেতা ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য অধ্যাপক আব্দুর রশীদ গত ৩০ এপ্রিল সাবেক মন্ত্রী তরিকুল ইসলামের সাথে সাক্ষাত করে ও পুলিশের হাতে গুলিবিদ্ধ শিবির নেতাকে হাসপাতালে দেখে ফেরার পথে আটক হন।
এরপর তাকে ফতেপুর থেকে অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনা সাজিয়ে দুটি মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়। কারাগারে আটক থাকা অবস্থায় তাকে আরও চারটি মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। এসব সাজানো ও মিথ্যা মামলা থেকে তিনি জামিন পান এবং ৩ জুলাই মুক্তি লাভ করেন। জামিন লাভের পর তিনি স্বাভাবিক জীবনযাপন করছিলেন। হঠাৎ বিনা মেঘে বজ্রপাতের মত ঘটনা ঘটে।
গত ২০ সেপ্টেম্বর রাত ১০ টার দিকে পুলিশ তার উপশহরস্থ বাড়ি থেকে আটক করে। অথচ মজার ব্যাপার হচ্ছে তাকে আটক দেখানো হয় রাত ১১টায়, বাহাদুরপুর স্কুল মাঠ থেকে।
সেখানে নাকি তিনি ভারি অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মিটিং করছিলেন। এই মিথ্যা ও আজগুবি মামলায় বিভিন্ন থানা থেকে আটক আরও ২০ জনকে এই মামলায় আসামী করা হয়। অথচ মামলাটিতে কোন সাক্ষী নেই। মিথ্যা মামলায় ১০ দিন কারাগারে থাকার পর জামিন পান অধ্যাপক আব্দুর রশীদ।
কিন্তু তাতেও পুলিশের খায়েশ মেটেনি। ঝামেলা ঝনঝট মুক্ত নিরপরাধ মানুষটিকে আবার বিনা মামলায় আটক করা হয়েছে। গতকাল বেলা ১১টায় জেল খানা থেকে জামিনে মুক্তি পেয়ে বের হলে কোতয়ালী থানা পুলিশ তাকে গেট থেকে আটক করে। এরপর তাকে আগের একটি পেন্ডিং সাজানো মামলায় আটক দেখিয়ে আদালতে প্রেরণ করে। আদালত তাকে জেল হাজতে পাঠিয়েছেন।
এদিকে গতকাল বিকেলে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু আটক হয়েছেন। কোতয়ালী থানা পুলিশ বিকেলে তাকে শহরের আইনজীবী সমিতি এলাকা থেকে তাকে আটক করে।
জামায়াতের জেলা আমীর অধ্যাপক আব্দুর রশীদকে মিথ্যা মামলায় বারবার গ্রেফতার ও বিএনপির জেলা সাধারণ সম্পাদকসহ আটক নেতৃবৃন্দের গ্রেফতারে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন জেলা জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমীর ও সাবেক এমপি মুহাদ্দিস আবু সাঈদ ও সেক্রেটারী মাস্টার নুরুন্নবী। তারা অবিলম্বে নেতৃবৃন্দের মুক্তি দাবি করেছেন।
এসএইচ





