কুষ্টিয়ায় ঈদ সামনে রেখে সেমাই কারখানাগুলো ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে। সেমাই তৈরি, রোদে শুকানো, খাঁচি ভর্তী করে বাজারে বিক্রির কাজে ব্যস্ত শ্রমিক ও মিলাররা।

কুষ্টিয়ার সাদা সেমাই এর ব্যাপক চাহিদা থাকায় জেলার বাইরেও পাঠানো হচ্ছে এ সেমাই। সেমাই বেচাকেনা নিয়ে পাইকারী ব্যবসায়ীরাও আড়তে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে।

বছরে দু'টি ঈদ, এই ২টি ঈদেই ধনী-গরীব সবার আনন্দের খাবার সেমাই চিনি। সেমাই ছাড়া যেন কোন মতেই ঈদ সম্ভব নয়।

ঈদকে সামনে রেখে কুষ্টিয়ার সেমাই কারখানাগুলোর ব্যস্ততা বেড়ে গেছে। জেলার বিখ্যাত সেমাই কারখানায় উৎপাদিত সাদা সেমাই এর চাহিদা থাকায় কারখানাগুলোতে ঈদের সামনে বিপুল পরিমাণে সেমাই তৈরি করে থাকে।

১৯৭২ সালে কুষ্টিয়ায় প্রতিষ্ঠিত হয় ১৫ টি সেমাই কারখানা। এবার ঈদকে সামনে রেখে জেলার ১৫টি সেমাই মিলে এক যোগে সেমাই উৎপাদিত হচ্ছে।

জেলার উৎপাদিত কারখানাগুলোর মধ্যে রয়েছে শিরিনা সেমাই কারখানা, কুষ্টিয়া সেমাই মিলস, রোলেক্স সেমাই, বিল্লাল ওয়েল মিলস, হোসেন ফুড ইন্ডাষ্ট্রিজ, আশরাফ ফ্লাওয়ার মিলস, শ্রদ্ধাঞ্জলী ইন্ডাষ্ট্রিজ, মিনকো ফ্লাওয়ার মিলস, আরবি ইন্ডাষ্ট্রিজ, আবদুল্লাহ ফ্লাওয়ার, মুনমুন ফুড ইন্ডাষ্ট্রিজ ও এগ্রি ফুড প্রোডাক্ট করপোরেশন।

কারখানা গুলোতে প্রতিদিন প্রয়ি ৫০ মন করে সেমাই উৎপাদন করছে। এসব সেমাই দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হয়। ক'দিন পরেই ঈদ তাই সেমাই তৈরিতে ব্যস্ত কুষ্টিয়ার ১৫ টি কারখানা।

ময়দা মাখানো, মেশিনের মাধ্যমে মিকচার করা, সেমাই তৈরি করে রোদে শুকানোর কাজে ব্যস্ত সেমাই শ্রমিকরা। ঈদ ঘনিয়ে আসায় কারখানাগুলোতে সেমাই তৈরিতে ব্যস্ত কারখানার শ্রমিকরা।

কুষ্টিয়ার এসব সেমাই কারখানার সাথে অনেকের জীবন-জীবিকা জড়িত। ঈদ উপলক্ষে সেমাই এর চাহিদার কারণে শ্রমিকদের ব্যস্ততা আরও বেড়ে গেছে। এ কারখানায় কাজ করেই তাদের সংসার চলে। তাই তাদের কোন ফুরসত নাই।

কুষ্টিয়ার ফ্যাক্টরীতে তৈরি সেমাই এর চাহিদা রয়েছে অনেক। এখানকার তৈরি সেমাই উন্নতমানের ও ভালো তাই এ জেলার বাইরেও এর চাহিদা প্রচুর। সেমাইয়ের চাহিদা প্রচুর থাকলেও বৃষ্টির কারনে সেমাই তৈরিতে তারা বাধাগ্রস্থ হচ্ছে।

কুষ্টিয়া ময়দা ও সেমাই মিল মালিক সমিতির সভাপতি চিত্তরঞ্জন পাল জানান, এবার সেমাই মিল মালিকদের ব্যবসার অবস্থা শোচনীয়। বৃষ্টির কবলে পড়ে এ ব্যবসার অবস্থা নাজুক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

ঢাকা, ২৫ জুলাই, টাইমনিউজবিডি.কম, এসআর