তারেক জিয়ার বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ ও গণমাধ্যমে প্রচারে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হাইকোর্টের বিচারপতি কাজী রেজাউল হকের গ্রামের বাড়ি ফেনী সদর উপজেলার ধলিয়া ইউনিয়নের বাড়িতে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা।

বুধবার গভীর রাতে বাড়ি চারপাশে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। আগুনের লেলিহান শিখা দেখে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে আগুন নিয়ন্ত্রনে আনে।

খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার সকালে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো: সাইফুল হক সহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো: সাইফুল হক জানান, বাড়িটির নিরাপত্তা দিতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তবে কী কারণে আগুন লাগানো হয়েছে এ ব্যাপারে পুলিশ নিশ্চিত না হয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি নন।

সরকারি দল মামলা সাজাতে এ ধরনের ঘটনা ঘটাতে পারে বলে তিনি মনে করেন সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ মিজানুর রহমান।

তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকার চেয়ারম্যান সহ বিএনপি নেতাকর্মীরা মামলা-হামলায় জর্জরিত হয়ে বাড়ি-ঘর ছাড়া। এমন পরিস্থিতিতে বিচারপতি কাজী রেজাউল হকের বাড়ীতে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় বিএনপি নেতাকর্মীদের জড়িত থাকা প্রশ্নই উঠে না।

এ বিচারপতি কাজী রেজাউল হকেসহ বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ বুধবার সকালে তারেক রহমানের বক্তব্য বাংলাদেশের গণমাধ্যমে প্রচার না করার নির্দেশনা চেয়ে দায়ের করা একটি রিটের শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী নাসরিন সিদ্দিকী লিনার দায়ের করা রিটের পক্ষে আইনজীবী হিসাবে শুনানি করেন সানজিদা খানম এমপি।

রিটে বিবাদী করা হয়েছে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, তথ্য সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, আইন সচিব, পুলিশ মহাপরিদর্শক, বিটিভির মহাপরিচালক, বিটিআরসির চেয়ারম্যান, একুশে টিভির প্রধান বার্তা সম্পাদক, কালের কণ্ঠের সম্পাদকসহ গণমাধ্যমকে।

রিটকারী নাসরিন সিদ্দিকী লিনা বলেন, একজন ফেরারি আসামির বক্তব্য মিডিয়ায় প্রচার হতে পারে না। যাকে আদালত খুঁজে পাচ্ছেন না, তার বক্তব্য প্রচারযোগ্য নয়। একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে আমি এ রিটটি দায়ের করেছি।

ভবিষ্যতে কোনো পত্রিকা, ইলেট্রনিক মিডিয়া, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইসে তারেক রহমানের কোনো বক্তব্য প্রকাশ, প্রচার, সম্প্রচার, পুন:উৎপাদন না করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে তথ্য সচিবের প্রতি নির্দেশনা চাওয়া হয় রিট আবেদনে।

অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশনার পাশাপাশি রিটে তারেক রহমানের বক্তব্য প্রচারে নিষেধাজ্ঞার কেন নির্দেশনা দেওয়া হবে না, মর্মে রুলও চাওয়া হয়।

রিটে বলা হয়, ফেরারি তারেক রহমান সংবিধান লঙ্ঘন করে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সম্পর্কে নানা অপরাধমূলক কথা বলছেন। যা দণ্ডবিধি অনুসারেও অপরাধ। এর মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষের অনুভূতিতে আঘাত দিচ্ছেন।

এএইচ