দেশে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতায় অন্যান্য স্থানের মতো নোয়াখালীতে পুলিশের বিশেষ অভিযানে প্রতিদিন গ্রেফতার হচ্ছে অসংখ্য মানুষ। আর তারা আদালত হয়ে প্রবেশ করছে নোয়াখালী জেলা কারগারে। যে হারে প্রতিদিন কারাগারে বন্দি বাড়ছে সেই হারে জামিন মিলছে না। ফলে কারাগারে প্রতিদিন বাড়ছে বন্দির সংখ্যা।
নোয়াখালী জেলা কারাগার সূত্র জানায়, ৪০৮ জন বন্দি ধারণ ক্ষমতার নোয়াখালী জেলা কারাগারে বর্তমানে বন্দির সংখ্যা প্রায় ১ হাজার। কারাগারে ১০টি ওয়ার্ডে বর্তমানে বন্দির সংখ্যা ৯৫০ জন। এদের মধ্যে ৬৯৫ জন হাজতি ও প্রায় ২৫৫ জনের মতো সাজাপ্রাপ্ত কয়েদি রয়েছে। কারাগারে বন্দি পুরুষদের মধ্যে সাজাপ্রাপ্ত আসামি রয়েছে ২৫৫ জন। এর মধ্যে সশ্রম কারাভোগ করছেন ১৫৮ জন এবং বিনাশ্রম কারাভোগ করছেন ৯৭ জন।
নোয়াখালী জেলা কারাগারের জেলার মো. আতিকুর রহমান জানান, কারগারে বন্দির স্বাভাবিক ধারণ ক্ষমতা ৪০৮ জন। ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নোয়াখালী জেলা কারাগারে মোট বন্দির সংখ্যা ছিল প্রায় ১ হাজার। ধারণ ক্ষমতার দুই গুণ বেশি বন্দি থাকার কথা স্বীকার করলেও জেল কর্তৃপক্ষ বলেছে এতে বন্দিদের কোনো সমস্যা হচ্ছে না।
জেল কর্তৃপক্ষ বলেছে, জেলকোড অনুযায়ী প্রতিজন বন্দির জন্য দৈর্ঘ্য আর প্রস্থে ছয় ফুট করে জায়গা বরাদ্দ রয়েছে। আর একজন কারাবন্দির জন্য এত বিশাল জায়গার সত্যিই প্রয়োজন পড়ে না। তাছাড়া কারাগারের ভবনগুলোতে পর্যাপ্ত করিডোর ও কক্ষগুলো বড় পরিসরের হওয়ায় ১০ জনের জায়গায় পনের জন করে বন্দি থাকতে বন্দিদের কোনো সমস্যায় পড়তে হয় না।
এদিকে জেল থেকে জামিনে বের হয়ে আসা কয়েকজন হাজতি আসামি নাম প্রকাশ না করে বলেছেন জেল, খানার ভেতরে বন্দিরা অত্যন্ত মানবেতর অবস্থায় রয়েছে। ১০ জনের কক্ষে ৩০ জনের বেশি বন্দি রাখা হয়েছে। টাকা দিলে মিলছে ঘুমানোর জায়গা। আর টাকা না দিলে রাতে ঘুমাতেও পারে না বন্দিরা।
জেলখানায় ইলিশ ফাইল খ্যাত (এক পাশ হয়ে একজনের শরীরের সঙ্গে অপরজনের শরীর লাগিয়ে ঘুমানো) বিশেষ পন্থা প্রতিরাতে ঘুমাতে হচ্ছে শত শত বন্দিকে। মিলছে না পর্যাপ্ত গোসলের পানি। মিলছে না পর্যাপ্ত খাবার।
অনুসন্ধানে জানা যায়, চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা আর সহিংসতার ফলে পুলিশের চলমান বিশেষ অভিযানে নোয়াখালী জেলা ও ৯ টি উপজেলা থেকে অসংখ্য মানুষ গ্রেফতার হচ্ছে। প্রতিদিন কারাগারে বন্দির সংখ্যা বাড়তে থাকায় বন্দিদের প্রাপ্য সুযোগ সুবিধাও কমছে ক্রমাগত। লোকবল সঙ্কটের কারণে বন্দি ব্যবস্থাপনায় হিমশিম খেতে হয় কারা কর্তৃপক্ষকে।
তবে কারা কর্তৃপক্ষ বলছে বন্দির সংখ্যা ক্রমাগত বাড়লেও এখন পর্যন্ত কারা ব্যবস্থাপনায় কোনো অসুবিধা হচ্ছে না। কারাগারে বন্দিরা জেল কোড অনুযায়ী প্রাপ্য সকল সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছেন।
কেএইচ





