জীবন্ত মৌমাছি গুঁড়া করে এবং বিভিন্ন ক্ষতিকারক কেমিক্যালের মিশ্রণে তৈরি পেস্ট দিয়ে ওষুধ উৎপাদন করার অভিযোগে যাত্রাবাড়ী এলাকায় দুটি কারখানা সিলগালা করেছে র্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। সোমবার দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত এ অভিযান চালানো হয়।
র্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারওয়ার আলম জানান, রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর কাজীরগাঁওস্থ ‘পদ্মা হোমিও ল্যাবরেটরীর’ মালিক মো. বুলবুল আহম্মেদকে (৪৬) দুই বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও দুইলাখ টাকা জরিমানা করা হয় এবং হারবো ল্যাবরেটরীজের ম্যানেজার নির্মল বর্মণকে (৬২) এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের ওষুধ তত্ত্বাবধায়ক মাহমুদুর রহমান জানান, অভিযানে দেখা যায় পদ্মা হোমিও ল্যাবরেটরী জীবন্ত মৌমাছি গুঁড়া করে পেস্ট বানিয়ে হোমিওপ্যাথিক ওষুধ তৈরির উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করছে। যেহেতু হোমিওপ্যাথিক ওষুধ তৈরিতে কোন লাইসেন্স লাগে না তাই তারা হোমিওপ্যাথিক ওষুধ তৈরির আড়ালে বিভিন্ন ধরনের হারবাল ও এলোপ্যাথিক ওষুধ তৈরি করে আসছিল।
তিনি আরও জানান, ওষুধ কারখানায় কোন ক্যামিস্ট বা ফার্মাসিস্ট ছাড়াই অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে এ সব মানহীন ওষুধ তৈরি করা হচ্ছিল। আলফালফা, রাসটক্স, আয়োডাম ও জিনসেং (যৌন শক্তিবর্ধক) নামে এ সব ওষুধ তৈরি করা হচ্ছে জীবন্ত মৌমাছির গুঁড়া করে এবং বিভিন্ন ক্ষতিকারক কেমিক্যালের মিশ্রণে তৈরি পেস্ট দিয়ে; যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।
অভিযুক্ত ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে অসাধু ব্যবসার উদ্দেশ্যে সরকারের অনুমোদন ছাড়াই এ সব নকল হোমিওপ্যাথিক ও হারবাল ওষুধ তৈরি করে বিক্রি করছে বলেও জানান তিনি।
এএইচ





