ময়মনসিংহ শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত গাঙ্গিনারপাড় হকার্স মার্কেটের দেড় শতাধিক দোকানপাট আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৬টায় এ আগুন লাগে।
ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিটের পাশাপাশি র্যাব-পুলিশ ও ব্যবসায়ীরা চেষ্টা করে পাঁচ ঘণ্টা পর বেলা সোয়া ১১টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আগুন ছড়িয়ে পড়ে পাশের মসজিদ মার্কেটে। ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তারা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে।
এদিকে খবর পেয়ে বিভাগীয় কমিশনার জিএম সালেহ উদ্দিন, ডিআইজি নিবাস চন্দ্র মাঝি, জেলা প্রশাসক ড. সুভাষ চন্দ্র বিশ্বাস, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. মোহসীন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আল আমিন, পৌর মেয়র ইকরামুল হক টিটু, জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল, জাপার মহানগর শাখার সভাপতি জাহাঙ্গীর আহমেদসহ প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাগণ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
এসময় জেলা প্রশাসন ড. সুভাষ চন্দ্র বিশ্বাস আসন্ন ঈদকে বিবেচনা করে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের দুই/এক দিনের মধ্যে ক্ষতিপূরণ ও স্বল্প সময়ের মধ্যে ব্যাংক ঋণ প্রদানের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
আগুনের সূত্রপাত ও ঘটনা তদন্তে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. নায়িরুজ্জামানকে প্রধান করে আট সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী তিন দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন জেলা প্রশাসক।
এদিকে মার্কেটের ব্যবসায়ীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের ধীরগতির কথা উল্লেখ করে জেলা প্রশাসককে জানান, শহরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও জনাকীর্ণ প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র গাঙ্গিনারপাড়, স্টেশন রোড এলাকায় কোনো জলাধার নাই।
বেশ কয়েকটি পুকুর থাকলেও বর্তমানে শহরের একমাত্র পানির উৎস বিদ্যাময়ী স্কুলের পুকুর। ঘটনাস্থল থেকে পুকুরটি কোয়ার্টার কিলোমিটার দূরে হওয়ায় আগুন নিয়ন্ত্রণে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা সময় লাগে। এনিয়ে প্রচণ্ড ক্ষোভ প্রকাশ করেন ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
তারা জানান, হকার্স মার্কেট লাগুয়া গাঙ্গিনারপাড় মসজিদের ভেতর ওজুর জন্য বিশাল জলাধার ছিলো। কিন্তু অসাধু ব্যবসায়ীদের যোগসাজসে সেটিকে বন্ধ করে মার্কেট ও হোটেল করা হয়েছে। ফলে হকার্স মার্কেটের পাশে কোনো জলাধার না থাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণে বিলম্ব হয়েছে। নইলে ক্ষতির পরিমাণ অনেক কম হতো।
এদিকে আগুন লাগার খবর ছড়িয়ে পড়লে মার্কেটের ব্যবসায়ী, স্বজন ও লাখো উৎসুক জনতা ভিড় জমান। যে কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে অনেকটা বেগ পেতে হয়।
ময়মনসিংহ শহরের প্রাণকেন্দ্র গাঙ্গিনারপাড় হকার্স মার্কেটে ছোট-বড় ব্যবসায়ীদের প্রায় দেড় শতাধিক পাইকারি ও খুচরা দোকান। যেখানে জুতা, গার্মেন্টস ও কসমেটিকসের দোকানই বেশি।
বৃহস্পতিবার সকাল সোয়া ৬টায় আকস্মিক আগুনের লেলিহান শিখা দেখতে পান স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। খবর পেয়ে প্রথমে ময়মনসিংহ ফায়ার সার্ভিসের ৪টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করলেও পানি স্বল্পতায় তা বিলম্ব হয়।
এরপর ত্রিশাল, ঈশ্বরগঞ্জ, মুক্তাগাছা ও ফুলবাড়ীয়া থেকে আরো ৪টি ইউনিট এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। কিন্তু ততক্ষণে আগুনের লেলিহান শিখা ছড়িয়ে পড়ে পুরো মার্কেটে। এসময় ভয়ে-আতঙ্কে হকার্স মার্কেট লাগুয়া দোকানপাটের মালামালও সরিয়ে নেন দোকানীরা। ব্যবসায়ী স্বজনদের আহাজারিতে পুরো এলাকাজুড়ে এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের সৃষ্টি হয়।
বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লাগতে পারে ধারণা করছেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা।
ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আল আমিন জানান, খবর পেয়ে পুলিশের অর্ধ শতাধিক সদস্য আগুন নিয়ন্ত্রণসহ আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে এবং লুটপাট এড়াতে প্রাণপণ চেষ্ঠা করেন। জেলা প্রশাসক ড. সুভাষ চন্দ্র বিশ্বাস জানান, মার্কেটের দেড় শতাধিক দোকানপাট পুড়ে গেছে। বিভিন্ন সংস্থার লোকজন ক্ষয়-ক্ষতি নিরূপণে কাজ করছে।
তিনি আসন্ন ঈদকে বিবেচনা করে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের স্বল্প সময়ের মধ্যে অর্থাৎ দুই/এক দিনের মধ্যে ক্ষতিপূরণ ও ব্যাংক ঋণ প্রদানের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
জেড





