গুণগত মান বজায় রেখে সড়কের কাজ করতে হবে। শহরের রাস্তা প্রশস্ত করার সময় খেয়াল রাখতে হবে, বেশি বাড়িঘর বা দোকানপাট যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।

প্রয়োজনে সড়কের শ্রেণিবিন্যাস (অ্যালাইনমেন্ট) পরিবর্তন করা যেতে পারে বলে নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

মঙ্গলবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত এনইসি সম্মেলন কক্ষে একনেক সভা অনুষ্ঠিত হয়। একনেক চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই সভার সভাপতিত্ব করেন।

সড়ক প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাস্তাঘাট নির্মাণে মান বজায় রাখতে হবে, যেন সবাই আরামে চলাফেরা করতে পারেন। কোনো প্রকল্পে ত্রুটি বা সংশোধনের বিষয় থাকলে দ্রুত প্রকল্প বাস্তবায়নকারী কর্মকর্তা বা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নজরে আনবেন।

৪ হাজার ৮২৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘আশ্রয়ন-২ শীর্ষক’ প্রকল্প সংশোধিত আকারে অনুমোদন দেওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় খেয়াল রাখতে হবে যেন সেখানে পুকুর বা জলাধার থাকে। প্রকল্প এলাকায় সুপেয় পানি, গাছপালা ও খেলার মাঠ থাকতে হবে।

কক্সবাজার বিমানবন্দর প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, এই বিমানবন্দরটি আন্তর্জাতিক রুটের কৌশলগত স্থানে রয়েছে। এখানে প্লেনের রিফুয়েলিংয়ের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। এটিকে আন্তর্জাতিক মানসম্মত বিমানবন্দর করা যেতে পারে।

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) প্রায় আট হাজার ৯৬৮ কোটি আট লাখ টাকা ব্যয়সম্বলিত আটটি প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে।

প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ‘বিভাগীয় শহরে সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১০০ শয্যাবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ ক্যান্সার চিকিৎসাকেন্দ্র স্থাপন’ প্রকল্প।

সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরেন।

পরিকল্পনামন্ত্রীর দেয়া তথ্য অনুযায়ী, সভায় অনুমোদিত প্রকল্পগুলো হলো- সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের দুটি প্রকল্প যথাক্রমে ‘ময়মনসিংহ (রঘুরামপুর)-ফুলপুর-নকলা-শেরপুর (আর-৩৭১) আঞ্চলিক মহাসড়ক উন্নয়ন’ প্রকল্প ও ‘রাজশাহী-নওহাটা-চৌমাসিয়া সড়কের বিন্দুর মোড় হতে বিমানবন্দর হয়ে নওহাটা ব্রিজ পর্যন্ত পেভমেন্ট চার লেনে উন্নীতকরণ’ প্রকল্প; স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের ‘রাজশাহী মহানগরীর উপশহর মোড় থেকে সোনাদিঘী মোড় এবং মালোপাড়া মোড় হতে সাগরপাড়া মোড় পর্যন্ত সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন’ প্রকল্প; প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের ‘আশ্রয়ণ-২ শীর্ষক’ প্রকল্প; মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ‘জুনোসিস এবং আন্তসীমান্তীয় প্রাণিরোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ গবেষণা’ প্রকল্প; পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের ‘স্ট্রেংদেনিং মনিটরিং অ্যান্ড ইভালুয়েশন ক্যাপাবিলিটিজ অব আইএমইড (এসএমইসিআই)’ প্রকল্প; বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ‘ভারতের ঝাড়খণ্ড হতে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ আমদানি করার লক্ষ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার রহনপুর থেকে মনাকষা সীমান্ত পর্যন্ত ৪০০ কেভি সঞ্চালন লাইন নির্মাণ’ প্রকল্প এবং স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ‘বিভাগীয় শহরে সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১০০ শয্যাবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ ক্যান্সার চিকিৎসাকেন্দ্র স্থাপন’ প্রকল্প।

একনেক সভায় উপস্থিত ছিলেন- অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, কৃষিমন্ত্রী মো. আব্দুর রাজ্জাক, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম, শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন, ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী।

এএস