দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ১০ জেলার সড়ক পরিবহণ মালিক-শ্রমিক ঐক্যপরিষদের ডাকা ধর্মঘটে অচল হয়েছে পড়েছে কুষ্টিয়া।
কুষ্টিয়া থেকে দূরপাল্লার কোনো যানবাহন ছেড়ে যায়নি। বন্ধ রয়েছে শহরতলীতে চলাচলকারী ইঞ্জিনচালিত সিএনজি অটোরিকশা। ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েছে সাধারণ যাত্রীরা।
রোববার ভোর ৬টা থেকে শুরু হয়েছে ওই ধর্মঘট।
মিরপুর উপজেলার আমলা থেকে সিএনজি অটোরিকশায় জেলা শহরে আসা আব্দুর রহিম বলেন, আমি আমার অসুস্থ বাবাকে নিয়ে হাসপাতালে যাব। কিন্তু ত্রিমোহনী থেকে আমাদের আটকে দেয়া হয়েছে। তাই বাধ্য হয়ে ভ্যানে করে বাবাকে হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছি।
শুধু আব্দুর রহিমই নয়, তার মতো আরও অনেকেই ত্রিমোহনী অতিক্রম করতে পারেনি। জুগিয়া পালপাড়া থেকে মজমপুর গেট পর্যন্ত রাস্তার দুইপাশে বাস, ট্রাক ও ইজিবাইকের তীব্র যানজটের মধ্যে পড়ে আছে তারা।
সোনিয়া নামের এক যাত্রী বলেন, আমি বাসে করে পাবনায় যাবো। কিন্তু বাস বন্ধ থাকায় বাধ্য হয়ে অটোরিকশায় ভেঙে ভেঙে যেতে হচ্ছে।
অপর এক যাত্রী বলেন, আমি ঢাকায় যাবো। নাটোর থেকে কুষ্টিয়া পর্যন্ত এসেছি কিন্তু এখানে এসে আটকে গেছি।
পরিবহন ধর্মঘটের কারণে সাধারণ মানুষ চরম বিপাকে পড়েছেন। বাধ্য হয়ে অনেককেই তীব্র গরমের মধ্যে পায়ে হেঁটে পথ পাড়ি দিতে দেখা গেছে।
প্রসঙ্গত, ২০১১ সালে মানিকগঞ্জে সড়ক দুঘর্টনায় নিহত হন সাংবাদিক ও চলচ্চিত্রকার মিশুক মুনীর এবং তারেক মাসুদ। চুয়াডাঙ্গা ডিলাক্স নামের একটি বাস চাপা দেয় তাদের বহনকারী মাইক্রোবাসটি। ঘটনার পরে প্রথমে ডিলাক্সের চালকের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা হয়। এ নিয়ে ব্যাপক আন্দোলন হয় সারাদেশে।
কুষ্টিয়া জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মাহাবুবুল আলম বলেন, বিশেষ ব্যক্তির জন্য বিশেষ আইন হতে পারে না। তার মৃত্যুতে আমরা শোকাহত। কিন্তু ক্ষতিপূরণের যে মামলা করা হয়েছে তা মোটেও ঠিক হয়নি। মামলা প্রত্যাহার না করলে আমরা সারাদেশে লাগাতার ধর্মঘট পালন করবো।
কুষ্টিয়া জেলা বাস-মিনিবাস মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক এসএম রেজাউল ইসলাম বাবলু বলেন, কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। আগামীতে কেন্দ্র যেভাবে বলবে সেভাবে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে অ্যাম্বুলেন্সসহ জরুরি পণ্যপরিবহন এ ধর্মঘটের আওতার বাইরে রাখা হলেও তীব্র যানজটের কারণে রাস্তায় আটকে থাকতে দেখা গেছে।
ধর্মঘট সফল করতে পরিবহন শ্রমিক নেতাকর্মীরা সকাল থেকে কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া-ঈশ্বরদী মহাসড়কে অবস্থান নেয়।
অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে মহাসড়কে র্যাব ও পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে মিশুক মুনির ও তারেক মাসুদ নিহত হওয়ার ঐ ঘটনায় ১৪ কোটি টাকার একটি ক্ষতিপূরণ মামলা দায়ের করেছে বাদী পক্ষ। এর প্রেক্ষিতেই এই ধর্মঘট।
মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদ বলছে, দুঘর্টনা ঘটেছে যা দুঃখজনক। কারোর মৃত্যু আমাদের কাম্য নয়। দুঘর্টনায় মামলা হবে দুঘর্টনার। কিন্তু মামলা হয়েছে হত্যার, তাও আবার ক্ষতিপূরণ মামলা। যা কাম্য নয়।
পরিষদের পক্ষ থেকে আরো বলা হয়, বিশেষ ব্যক্তির জন্য যদি বিশেষ ব্যবস্থা থাকে তাহলে আমরা সারাদেশে গাড়ি চালানো বন্ধ করে দেবো।
এদিকে বাস চলাচল বন্ধ থাকায় সাধারণ যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়লেও ধর্মঘট আগামীকালও সোমবার (১৬মে) চলবে বলে জানিয়েছেন মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদ।
এমআইএস





