স্থল বন্দর বেনাপোলে জায়গা সংকটের কারনে রোদ বৃষ্টিতে ভিজে খোলা আকাশের নীচে আমদানিকৃত কোটি কোটি টাকার পন্য নষ্ট হচ্ছে। ফলে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে বেনাপোল বন্দর ব্যবহারকারি ব্যাবসায়ীরা। আর নিয়মিত যানজট লেগে থাকায় বিড়ম্বনায় পড়ছে ব্যবসায়ি, স্কুল ছাত্র/ছাত্রী,পাসপোর্টযাত্রী এবং পর্যটকরা।

যোগাযোগ ব্যাবস্থা ভালো থাকায় দেশের সিংহ ভাগ বানিজ্যিক আমদানি-রপ্তানি হয় বেনাপোল দিয়ে। বেনাপোল বন্দরে আমদানিকৃত ভারতীয় নতুন গাড়ি রাখার মত টার্মিনাল বা কোন শেড না থাকায় রাস্তার উপর গাড়ি গুলো রাখায় যানজট তীব্র আকার ধারন করে। এর ফলে গাড়ির টায়ার টিউব ব্যাটারি চুরি হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে এলাকার ব্যবসায়িরা।

বেনাপোল বন্দরে ভারতীয় আমদানি কৃত বিভিন্ন প্রকারের গাড়িগুলো প্রধান রাস্তার উপরে পড়ে থাকায় বন্দরে অন্যান্য আমদানি পন্য নিয়ে গাড়ি প্রবশ করতে নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। এমনকি ৪/৫ দিন পর্যান্ত বিভিন্ন শিল্পের কাচাঁমাল নিয়ে গাড়ি গুলো রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে থেকে যানজটের সমস্যা সৃষ্টি করছে। ব্যবসায়িরা অভিযোগ করে বলেছে বেনাপোল বন্দরে জায়গা সংকটের কারনে এ ধরনের সমস্যা হচ্ছে দীর্ঘদিন ধরে।

বেনাপোল সিএন্ডএফ এ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মফিজুর রহমান সজন বলেন, আমরা সরকারকে রিতিমত আমদানি পন্যের ভাড়া দিয়ে ওয়্যারহাউজে পন্য রাখি। তারপর সরকার এখান থেকে ভাড়া পেয়ে বন্দরের উন্নয়ন না করায় ব্যবসায়িরা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। বারবার বন্দর কর্তৃপক্ষকে এ ব্যাপারে অবহিত করলে ও কোন চুড়ান্ত পদক্ষেপ নিচ্ছে না। আশ্বাস দিয়ে ব্যবসায়ীদের ঝুলিয়ে রেখেছে দীর্ঘদিন। বেনাপোল বন্দরের ধারন ক্ষমতা ৩৬ হাজার মেট্রিক টন। সেখানে এ বন্দরে আমাদিন হয় ১ লাখ মেট্রিক টন। শেডে জায়গা না থাকায় আমদানি পন্যর ভাড়া ঠিকমত নিয়ে কর্তৃপক্ষ রেখে দেয় খোলা আকাশের নীচে। কিন্তু এসব পন্যর সরকারি ট্যাক্স এবং গোডাউন ভাড়া ১০০% গুনতে হচ্ছে ব্যবসায়িদের।


আন্তর্জাতিক বেনাপোল চেকপোষ্ট দিয়ে প্রতিনিদ ৩ থেকে ৪ হাজার পাসপোর্টযাত্রী দেশী বিদেশী পর্যটক যাতায়াত করলেও তাদের জন্য নেই কোন বিশ্রামগার। ফলে বৃষ্টিতে ভিজে এরা ভারত থেকে ল্যাগেজ নিয়ে এবং ছোট ছোট ছেলেমেয়ে ও রোগীদের নিয়ে অসহায় অবস্থায় ভিজতে ভিজতে ইমিগ্রেশন কাষ্টমস থেকে বের হচ্ছে। এখানে ও সরকারের একটি বড় রাজস্ব আয়। ভারত গমন প্রতিযাত্রী সরকারকে ৫০০শত টাকা ট্রাক্স দিয়ে ভারত যাচ্ছে।

বেনাপোল বন্দর ব্যাবহারকারি ব্যবসায়িরা জানান, ব্যবাসয়িরা আজ অসহায়। এ পথে তারা ব্যবসা করতে এসে শুধু মালামাল খোলা আকাশের নীচে নষ্ট হচ্ছে না। সাথে কাষ্টমস এর কাছে পন্য ছাড় করাতে গেলে ও নানা ভাবে হয়রানি হতে হয়। এভাবে যদি ব্যাবসা বানিজ্য এবং বন্দর এর উন্নয়ন না হয় তাহলে আস্তে আস্থে ধ্বংস হয়ে যাবে বেনাপোল বন্দর । তখন সরকার হারাবে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব।

এ বন্দর দিয়ে প্রতিদিন আমদানি রফতানি বানিজ্য পরিবহন যাতায়তা করে ৫০০ শতর উপরে। তারপর ও নেই কোন মাথাব্যাথা। সরকার বন্দর উন্নয়নের ব্যপারে সঠিক পদক্ষেপ নিলে এ বন্দর থেকে সরকারের সর্বোচ্চ রাজস্ব আয় হতো বলে মনে করেন ব্যাবসায়িরা।

এ ব্যাপারে বন্দর পরিচালক নিতাই চন্দ্র সেনের সাথে আলাপ করলে টাইমনিউজবিডি’কে তিনি জানান, আমরা বিষয়টির গুরুত্ব বুঝতে পারছি কিন্তু উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে বারবার অবহিত করলে ও কোন কাজ হচ্ছে না। তবে আমাদের জোর চেষ্টা চলছে যাতে দ্রত এ সমস্যার সমাধান হয় সে ব্যাপারে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

জারিফ