কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের ইতিহাস বিভাগের ছাত্র ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু হত্যাকাণ্ডের ৮৭ দিনেও হত্যাকারীরা চিহ্নিত না হওয়ায় আবারও আন্দোলনমুখী ছাত্র-জনতা।
বুধবার সকালে কুমিল্লা প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের শিক্ষার্থীরাসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ। এ সময় তারা ‘খাওয়া নাইকো, নাওয়া নাইকো, নাইকো মুখে হাসি, এক দফা এক দাবি চাই নর ঘাতকের ফাঁসি’সহ বিভিন্ন শ্লোগান দিতে থাকেন।
ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন শেষে তনুর ভাই রুবেল হোসেন সাংবাদিকদের জানান, ‘আমার বোন হত্যাকাণ্ডের ৮৭ দিন পরেও প্রশাসন তার খুনিদের শনাক্ত করতে পারেনি। সিআইডি ডিএনএ প্রতিবেদন ব্যতীত প্রথম ও দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত মিথ্যা তথ্য দেওয়া হয়েছে।’
তিনি ময়নাতদন্তকারী ডাক্তারদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান।
কুমিল্লা গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র খাইরুল আলম রায়হান মানববন্ধন শেষে প্রতিবাদ সভায় বলেন, ‘তনু হত্যাকারীদের অতিদ্রুত গ্রেফতার করা না হলে আমারা কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হবো। আগামী ২০ জুনের মধ্যে তনুর হত্যাকারীদের শনাক্ত করে বিচারের আওতায় না আনলে কুমিল্লা পূবালী চত্ত্বরে সভাবেশ করবো।
ঈদের পর বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে তিনি হুশিয়ারি উচ্চারণ করেণ।
গত ২০ মার্চ রাতে কুমিল্লা সেনানিবাসের একটি ঝোপ থেকে তনুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে তনুর বাবা ইয়ার হোসেন বাদী হয়ে কুমিল্লা কোতোয়ালী মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলাটি প্রথমে পুলিশ ও ডিবি হয়ে সিআইডির কাছে হস্তান্তর করা হয়।
পরবর্তীতে ২৮ মার্চ আদালত নির্দেশ দেন, তনুর লাশ কবর থেকে উত্তোলন করে দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত করার। এর পরিপ্রেক্ষিতে ৩০ মার্চ তনুর লাশ জেলার মুরাদনগর উপজেলার মির্জাপুর গ্রামের বাড়ির কবরস্থান থেকে উত্তোলন করা হয়।
এরপর ৪ এপ্রিল কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগ থেকে প্রথম ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। ওই প্রতিবেদনে তনুকে হত্যা ও ধর্ষণের আলামত পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করা হয়।
১২ জুন দ্বিতীয় ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনেও মৃত্যুর কারণ পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর পূর্বে তার সাথে সেক্সুয়াল ইন্টারকোর্স বা যৌন সংযোগ হয়েছিল বলে রিপোর্ট দিয়েছে দ্বিতীয় ময়নাতদন্তকারী মেডিকেল বোর্ড।
এমআর





