পিরোজপুর ও ইন্দুরকানী উপজেলার পাড়েরহাট বন্দর ও বাদুরা মৎস বন্দরের একমাত্র সংযোগ সেতুটি নির্মান না হওয়ার কারনে চরম ভোগান্তিতে দুই উপজেলার লক্ষাধিক জনগন।

পাড়েরহাট বন্দর ব্যবসায়ী ও মৎস আড়ৎ -এর ব্যবসায় চরম মন্দা প্রভাব। সম্পূর্ন ধসে যাওয়ার ১ বছর অতিবাহিত হলেও সেতু মেরামত বা পুন নির্মান এর কোন কার্যকরি উদ্দ্যোগ নেই।

ধসে যাওয়া আয়রন সেতুর পিলার’সহ বিভিন্ন মালামাল খালে পড়ে থাকার কারনে বোঝাইকৃত ট্রলার, নৌকা ও কার্গো চলাচল করতে পারছে না বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।

সেতুটি না থাকার জন্য পাড়েহাট বন্দর ও মৎস আড়তের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় চড়ম দূর্ভোগের শিকার ভূক্তভোগীরা। মৎস ব্যবসায়ী, স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রী’সহ সর্বসাধারণ চরম দূর্ভোগে পড়েছে।

দুই উপজেলার যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম সেতুটি। পাড়েরহাট মৎস আড়ৎ টি দক্ষিন অঞ্চলের সর্ববৃহত্তম আড়ৎ হিসেবে পরিচিত। এখানে দৈনিক কোটি কোটি টাকার মাছ ক্রয়-বিক্রয় হয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হয়।

এছাড়া, এই সেতুটি দিয়ে স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসাসহ পাড়েরহাট বন্দরে দৈনিক হাজার হাজার পথচারীরা চলাফেরা করে। সেতুটি না থাকার কারনে তাদের নৌকা পাড়াপাড়ে চরম ভোগান্তির শিকার হয়।

এলাকা সূত্রে জানা যায়, সংস্কারের ৩ মাস শেষ না হতেই প্রথম দফায় সেতুর মধ্যবর্তী পিলার ও জয়েন্ট ভেঙ্গে পড়ে একটি মাছধরা ট্রলারের ওপর এতে মাঝিসহ কয়েক জন গুরুত্বর আহত হয়। যোগাযোগের অন্য কোন মাধ্যম না থাকায় অনেকে ঝুঁকিনিয়ে এই সেতু দিয়েই আবার পারাপার হত।

অবশেষে এর কিছুদিন পর পথচারীরা সেতু পার হওয়ার সময় একেবারে বিধ্বস্ত হয়ে খালের পানিতে তলিয়ে যায় এর কারণে মাছের ট্রলারসহ অনেক পথচারিরা আহত হয়। দুই পাড়ের বাসিন্দারা বর্তমানে নৌকা ও ট্রলার দিয়ে পাড়াপার হচ্ছে।

উপজেলার এলজিডি অর্থায়নে নির্মিত পাড়েরহাট খালে ৭০ মিটার আয়রন সেতুটি ধসের আগে ১১ লাখ ২৫ হাজার টাকা ব্যয়ে পুনঃসংস্কার করা হয়। সংস্কার কাজ করেন পিরোজপুরের নাম করা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। সেতু সংলগ্ন পাড়েরহাট বন্দর ও বাদুরা মৎস বন্দরের ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, নাম মাত্র সংস্কার হয়েছে।

পাড়েরহাট মৎস আড়ৎ সমিতির ব্যবসায়ী ইকবাল হোসেন জানায়, আমাদের এই মৎস আড়তে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে মাছ ক্রয়ের জন্য আসে ব্যবসায়ীরা। এখানে দৈনিক প্রায় কোটি টাকার মাছ ক্রয়-বিক্রয় হয়। সেতুটি না থাকার কারনে আমাদের বেচাকিনা খুবই খারাপ যাচ্ছে। যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম এই সেতুটি না থাকায় ক্রেতাদের আসতে অসুবিধা হয়।

পিরোজপুর সদর উপজেলা প্রকৌশালী মো. নুরুসামছ জানান, আয়রন ব্রিজটি পুনঃনির্মানের জন্য জরিপ শেষে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে চূড়ান্ত তালিকা প্রেরন করা হয়েছে। অনুমোদন পেলে মেরামতের জন্য পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কেফায়েত/এমবি