বুড়িগঙ্গার আদি চ্যানেল উদ্ধারে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন পরিবেশবাদীরা। তারা বলছেন, বেপরোয়া দখল-ভরাট, ক্রমবর্ধমান দূষণ ও অব্যাহত আগ্রাসনের ফলে বুড়িগঙ্গার আদি চ্যানেল এখন মৃত প্রায়। অথচ মহানগরী ঢাকার জনস্বাস্থ্য,পরিবেশ ও অর্থনীতির জন্য বুড়িগঙ্গার আদি জ্যানেল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বুড়িগঙ্গার আদি চ্যানেল দখল, ভরাট ও দূষণমুক্ত করার দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধনে পরিবেশবাদীরা এ দাবি জানান। পরিবেশ বাচাঁও আন্দোলন (পবা), নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ ফোরাম (নাসফ), ইউপিএফ,ইকো সোসাইটিসহ কয়েকটি সগঠন এ মানবন্ধনের আয়োজন করে।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, মহামান্য হাইকোর্টেও নির্দেশনা থাকলেও ঢাকার প্রাণ স্বরুপ বুড়িগঙ্গার আদি চ্যানেল পুণরুদ্ধারে বিভিন্ন সময়ে বিচ্ছিন্ন কিছু অভিযান পরিচালিত হয়েছে মাত্র। যা কোন কাজে আসেনি।
ফলে ঢাকার পশ্চিম অঞ্চলের বুড়িগঙ্গা আদি চ্যানেল সংগলগ্ন মো:পুর, রায়ের বাজার, হাজারীবাগ, কালুনগরসহ এলাকার খালগুলো মরতে বসেছে। এইসব এলাকায় বর্ষার সময় সামান্য বৃষ্টিতেই ভয়াবহ জলাবদ্ধতার মুখে পড়ে। অধিক বৃষ্টিতে ঘরবাড়ী তলিয়ে যায়। তখন জনগণের দুর্ভোগ প্রকট আকার ধারণ করে।
এমতাবস্থয় বুড়িগঙ্গার আদি চ্যানেলের সাথে সংযুক্ত জলাধার উদ্ধারে প্রশাসনের যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরী। স্থানীয় জনসাধারণ, মহানগরবাসী, পরিবেশ বিশেষজ্ঞসহ সুশীল সমাজ দখলের এই জঘণ্য প্রতিযোগীতা বন্দে সরকারের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করছে।
মানববন্ধনে তারা কয়েকটি দাবিও পেশ করেন। সেগুলো হলো- বুড়িগঙ্গার আদি চ্যানেল দখল ভরাট করে নির্মাণকৃত বাড়িঘরের পানি বিদ্যুতসহ সকল নগরিক সুযোগ এখনই বন্ধ করে দেয়া এবং অনতিবিলম্বে সকল দখল ও ভরাট এবং দূষণমুক্ত করতে এখনই পদক্ষেপ গ্রহণ করা।
সিএস রেকর্ড অনুযায়ি বুড়িগঙ্গার আদি চ্যানেলের সিমানা নির্ধাণ করে স্থায়ী পিলার স্থাপন করা। বুড়িগঙ্গার আদি চ্যানেলের প্রদত্ত ভূমি বরাদ্দ সমূহ অনতিবিলম্বে বাতিল করা। ব্যক্তি ও সংস্থার নামে বুড়িগঙ্গার আদি চ্যানেলের রেকর্ড সমূহ আইন বহির্ভুত ঘোষণা করে সেগুলো বাতিল করা। খনন করে আদি চ্যানেলের প্রবাহ পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা।
নদী দূষণ মুক্ত করার লক্ষে পয়ঃবর্জ্য পরিশোধানাগার স্থাপন; গৃহস্থালি বর্জ্য পানি প্রবাহে ফেলা থেকে বিরত থাকা; ট্যানারীগুলো জরুরি ভিত্তিতে স্থানান্তর এবং বর্জ্য পরিশোধানাগার স্থাপন ও বর্জ্য পরিশোধন করা; শিল্পকারখানার বর্জ্য পরিশাধন স্থাপন এবং নিয়মিত তা পরিচালনা করা ,নৌযানের বর্জ্যও তেল নদীতে ফেলা থেকে বিরত থাকা।
মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন, পরিবেশ বাচাঁও আন্দোলনের নির্বাহী সম্পাদক প্রকৌশলী আব্দুস সোবহান, ইউনাইটেড পিস ফাউন্ডেশনের আতিক মোরশেদ, নাগরিক অধিকার ফোরামের হাফিজুর রহমান ময়না, পল্লীমা গ্রিনের সদস্য সচীব তারিক হাসান মিঠুল প্রমুখ।
এমএ/এআর





