কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের ইতিহাস বিভাগের ছাত্রী সোহাগী জাহান তনুকে ধর্ষণের পর হত্যা হওয়ার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ এবং বিচার বিভাগীয় তদন্তের পর দোষীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানের দাবি জানান বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

গত ২০ মার্চ রাতে ময়নামতি সেনানিবাসের অলিপুর এলাকার একটি কালভার্টের রাস্তার পাশে ঝোঁপের মধ্যে ১৯ বছর বয়সী এই তরুণীর লাশ পাওয়া যায়।

শুক্রবার জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারী জেনারেল ডা.শফিকুর রহমান এক বিবৃতিতে বলেন,  ‘সোহাগী জাহান তনুকে সেনানিবাস এলাকার ভিতরে ধর্ষণ করে হত্যা করা হয়। সেনানিবাসের মত একটি নিরাপদ স্থানে এ ধরনের ন্যক্কারজনক ঘটনা কী কখনো কল্পনা করা যায়? ঘটনার আজ  ৬ দিন হয়ে গেলো অথচ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ধর্ষক ও খুনীদের কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।’

জামায়াত নেতা বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর থেকে নারী ও শিশু নির্যাতন বেড়েই চলেছে। প্রায় প্রতিদিনই এমন পৈশাচিক ও নৃশংস ঘটনা ঘটছে যা মানুষের মনে আতঙ্কের সৃষ্টি করছে।’

২০১৫ সালে ১৪১টি শিশুকে ধর্ষণ এবং ১০৩ নারীকে গণধর্ষণের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘প্রতিনিয়ত পৈশাচিক ও নৃশংস ঘটনা ঘটে যাচ্ছে। অথচ প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী পরিষদের সদস্যবৃন্দ, আওয়ামী লীগের নেতারা আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রশংসায় পঞ্চ মুখ। তাদের মতে অতীতের যে কোনো সময়ের চাইতে নাকি বর্তমানে দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অনেক উন্নত।

সরকার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দ্বারা বিরোধী দলের নেতা ও কর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়ায়ে তাদের গ্রেপ্তার, অপহরণ, গুম, হত্যা করার কাজে অন্যায়ভাবে ব্যবহার করছে। খুনী ও সন্ত্রাসীরা সরকার এবং প্রশাসনের অশ্রয়-প্রশ্রয়ে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। হেন অপকর্ম নেই যা তারা করছে না।’

তিনি বলেন, ‘স্বাধীন বাংলাদেশে একজন নারীর কোনো নিরাপত্তা থাকবে না তা কখনো মেনে নেয়া যায় না। আমি তনু হত্যার ঘটনার তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করছি ও তার রূহের মাগফিরাত কামনা করছি এবং তার পরিবার-পরিজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। এ ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্তের পর দোষীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানের দাবি করছি।’

এমই