সুপ্রীম কোর্টের আপীল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ও সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার বিচারপতি আব্দুর রউফ বলেছেন, “আমাদের দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় কোন শৃঙ্খলা নেই। শিক্ষার উদ্দেশ্যও পরিচ্ছন্ন নয়। শিক্ষকদেরকে যথাযথ সম্মান করা হয় না। তাই জাতিকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হলেও সুশৃঙ্খল শিক্ষাপদ্ধতির সাথে সাথে শিক্ষার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যকে পরিচ্ছন্ন করতে হবে। শিক্ষক সমাজের অবমূল্যায়ন করে কোন জাতিই কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে পৌছতে পারে না।”
তিনি শিক্ষাকে গণমুখীকরণ ও শিক্ষক সমাজের মর্যাদা রক্ষায় সকলকে ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস চালানোর আহ্বান জানান।
তিনি বিশ্ব শিক্ষক দিবস-২০২১ উপলক্ষে বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশন ঢাকা মহানগরী উত্তর আয়োজিত এক ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশ কলেজ শিক্ষক পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশন ঢাকা মহানগরী উত্তরের সভাপতি প্রফেসর আব্দুল করিমের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন- বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশন ঢাকা মহানগরী উত্তরের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশনের সভাপতি প্রফেসর ড. এম কোরবান আলী ও বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশনের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক এবিএম ফজলুল করিম। আরও বক্তব্য রাখেন- প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক পরিষদের সভাপতি ড. একেএম ফজলুল হক, কলেজ শিক্ষক পরিষদ ঢাকা মহানগরী উত্তরের সভাপতি অধ্যাপক আ জ ম কামাল উদ্দীন, মাধ্যমিক শিক্ষক পরিষদ ঢাকা মহানগরী উত্তরের সভাপতি অধ্যক্ষ মো: সিরাজুল ইসলাম, ইবতেদায়ি শিক্ষক পরিষদ ঢাকা মহানগরী উত্তরের সভাপতি মাওলানা মীম আতিকুল্লাহ ও কিন্ডারগার্টেন শিক্ষক পরিষদ ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি মাওলানা রহমতুল্লাহ প্রমূখ। শুরুতেই কালামে হাকীম থেকে অর্থসহ তিলাওয়াত করেন কলেজ শিক্ষক পরিষদ ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি অধ্যাপক মো: কামাল উদ্দীন।
বিচারপতি আব্দুর রউফ বলেন, “কুরআনের জ্ঞানই প্রকৃত জ্ঞান। মানুষ আল্লাহর প্রতিনিধি বা খলিফা। সুরা আল আলাক্ব সহ কালামে পাকের বিভিন্ন জায়গায় শিক্ষার গুরুত্ব সম্পর্কে বলা হয়েছে। আর মানুষের অধিকার ও দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন করা তোলায় শিক্ষার প্রকৃত লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। মূলত, অহীলব্ধ জ্ঞানের মাধ্যমেই বিশ্ব মানবতার সকল সমস্যার সমাধান করা সম্ভব। তাই সমৃদ্ধ জাতি গড়তে হলে শিক্ষক-ছাত্রসহ সকলকেই কুরআনে জ্ঞান যথাযথভাবে অর্জন করে তা বাস্তব জীবনে পুরোপুরি প্রতিফলন ঘটাতে হবে।” তিনি কুরআনের শিক্ষা সম্প্রসারণে শিক্ষক সমাজকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, “শিক্ষকতা একটি মহান পেশা। তারা মানুষ গড়ার কারিগর। শিক্ষকসমাজ ব্যক্তির সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ ও শিক্ষার্থীর মধ্যে সৃজনশীলতা জাগ্রত করার ব্রত নিয়ে কাজ করেন। মূলত, শিক্ষাকতা হচ্ছে আল্লাহ প্রদত্ত কর্তব্য। সঙ্গত কারণেই কাজটি বেশ কঠিন। শিক্ষকদের কাজই হলো মানুষের মধ্যে জ্ঞান বিতরণ করা। তাই এই মহতি কাজটি করতে হবে নিষ্ঠা, দক্ষতা ও প্রজ্ঞার সাথে। শিক্ষার্থীদের পাঠদান করতে হবে উত্তম পন্থায়। তিনি নতুন প্রজন্মকে যোগ্য নাগরিক হিসাবে গড়ে তুলতে শিক্ষক সমাজকে নিরলসভাবে কাজ করার আহবান জানান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, শিক্ষকতা একটি মহতি পেশা হলেও শিক্ষকদের সমস্যা অনেক। করোনাকালে সরকারি শিক্ষকরা তাদের বেতনভাতা ঠিকমত পেলেও বেসরকারি শিক্ষকদের সমস্যা সমাধানে কেউই এগিয়ে আসেনি। কিন্তু তারা অনাহারে-অর্ধাহারে থেকে তাদের পেশাগত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের পালনের চেষ্টা করেছেন। যা সত্যিই প্রশংসনীয়। তিনি সকল শিক্ষকের সুযোগ-সুবিধার সমতা নিশ্চত করতে সরকারকে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করার আহবান জানান।
প্রসেফর ড. এম কোরবান আলী বলেন, আমাদের দেশের শিক্ষক সমাজ অধিকার বঞ্চিত, বিপর্যস্ত ও অবহেলিত। ভবিষ্যতের সুনাগরিক গড়ার কারিগররা করোনাকালে মানবেতর জীবন যাপন করলেও কেউ তাদের সমস্যা সমাধানে এগিয়ে আসেনি। সরকারও তাদের জন্য সহযোগিতার হাত বাড়ায়নি। যা দেশ ও জাতির জন্য দুর্ভাগ্যজনক।
অধ্যাপক এবিএম ফজলুল করিম বলেন, দীর্ঘদিন পর কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া হলেও সব প্রতিষ্ঠানই এখনো খেলা হয়নি। কিন্তু আবারও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কথা শোনা যাচ্ছে। কোন অজুহাতেই নতুন করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের সুযোগ নেই। তিনি শিক্ষা ও শিক্ষক বাঁচাতে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।প্রেস বিজ্ঞপ্তি
এমবি





