নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ থানার ওসি মোরশেদ আলম পিপিএম ও এসআই সাধন চন্দ্র বসাকের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়েরের প্রতিবাদের সংবাদ সম্মেলন করেন কমিউনিটি পুলিশিং সোনারগাঁ শাখা। রোববার সকালে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন সোনারগাঁ উপজেলার কমিউনিটি পুলিশিং সোনারগাঁ শাখার সভাপতি গাজী মুজিবুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা ওসমান গনি, যুগ্ম সম্পাদক সাইদুল ইসলাম শহিদ, সনমান্দি ইউনিয়ন কমিউনিটি পুলিশিংয়ের সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম খোকন, বৈদ্যেরবাজার কমিউনিটি পুলিশিংয়ের সভাপতি জাহ্ঙ্গীর হোসেন, বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়ন পরিষদের ইসমাঈল হোসেন, প্যানেল চেয়ারম্যান জামপুর ইউনিয়ন কমিউনিটি পুলিশিংয়ের সভাপতি দেওয়ান কামাল হোসেন, প্রচার সম্পাদক পনির ভুইয়া, মানবাধিকার কর্মী জাহানারা বেগম ও মুক্তিযোদ্ধা মোস্তফা মিয়া।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তরা বলেন, সোনারগাঁ থানার অফিসার ইনচার্জ মোরশেদ আলম পিপিএম ও সেকেন্ড অফিসার এসআই সাধন চন্দ্র বসাক অত্যান্ত নম্য ভদ্র ও শান্ত প্রকৃতির লোক তারা দীর্ঘদিন যাবত থানায় অত্যান্ত সুনাম ও দক্ষতার সাথে কার্যাক্রম পরিচালানা করে আসছেন। তারা যোগদানের পর এলাকায় চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই সন্ত্রাস ও চাদাবাজী, ভুমি দস্যুতা অনেক কমে এসেছে। সবকিছু মিলিয়ে আইন শৃঙ্খলা ভাল অবস্থানে রয়েছে।

সম্প্রতি যুবলীগ নেতা মাসুম চৌধুরী ও মোস্তফা কামালের মধ্যে সোনারগাঁ পৌরসবার দত্তপাড়া এলাকায় এশটি জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। গত ২ অক্টোবর মোস্তফা কামাল তার ক্রয়কৃত জায়গায়তে যেন কেউ দখলে যেতে না পারে সেজন্য নারায়ণগঞ্জ আদালতে একটি কোর্ট পিটিশন দায়ের করেন। আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে উপজেলা যুবলীগের সহ-সভাপতি মাছুম চৌধুরী  ও যুবলীগ নেতা জাহিদুর ইসলাম স্বপন গত ৮ অক্টোবর রাতের আধারে তাদের সঙ্গীয় দলবল নিয়ে জায়গাটি দখল করতে গেলে থান পুলিশ ঘঁটনাস্থল থেকে জাহিদুর ইসলাম স্বপন ও আনিছুর রহমান আলমগীরসহ তিন জনকে আটক করে। এসময় জাহিদুর ইসলাম স্বপন পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টা করে। এসময় জাহিদুর ইসলাম স্বপন দৌড়ে পালাতে গিয়ে সামান্য আঘাত প্রাপ্ত হন। এসময় পুলিম উদ্ধার করে স্বপনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসার পর থানায় নিয়ে আসে। পরের দিন উপজেলা যুবলীগের সভাপতি রফিকুল ইসলাম নান্নু ও কয়েকজন গন্যবান্য ব্যক্তি বিষয়টি মিমাংসা করার শর্তে মুছলেখা দিয়ে সুস্থ অবস্তায় থানা থেকে ছাড়িয়ে নেন।

ছাড়িয়ে নেওয়ার পর গত ১১ অক্টোবর যুবলীগ নেতা জাহিদুর ইসলাম স্বপন বাদি হয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা আদালতে সোনারগাঁ থানার ওসি মোরশেদ আলম ও এসআই সাধর চন্দ্র বসাকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, ক্রসফায়ার ও শারিরিকভাবে নির্যাতন চালিয়ে তার কাছ থেকে ৫০ লাখ টাকা দাবি করেন। অথচ মামলার বাদি জাহিদুর ইসলাম স্বপন ৫০ লাখ টাকার সম্পদের মালিকও নন বলে দাবি করেন বক্তরা।

বক্তরা আরো বলেন, যুবলীগ নেতা মাসুম চৌধুরীর বিরুদ্ধে ভুমিদস্যু, টেন্ডারবাজি, চাদাবাজিসহ ১০টি মামলা রয়েছে এবং অসমাজিক কার্যাকালাপসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। অবিলম্ভে সোনারগাঁ থানার ওসি মোরশেদ আলম ও এসআই সাধন চন্দ্র বসাকের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান।

মোঃ শাহ জালাল/এসএম