যাত্রীদের জিম্মি করে ভাড়া আদায়ের অপকৌশল বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আনু মোহাম্মদ।
একই সঙ্গে তিনি গণপরিবহনের সংকট নিরসনের পাশাপাশি যাত্রী সেবার মান উন্নয়নে মনোযোগী হওয়ার জন্যও সরকারের প্রতি দাবি জানান।
সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে দেশব্যাপী যাত্রী সাধারণের মতামত গ্রহণের জন্য ‘ভাড়া নৈরাজ্য পর্যবেক্ষণ উপ-কমিটির’ উদ্যোগে ভূক্তভোগী জনসাধারনের অভিযোগ গ্রহণের গণশুনানীতে তিনি এসব কথা বলেন।
গণশুনানী অনুষ্ঠানে যাত্রীরা অভিযোগ করেন, সরকার ঢাকা-চট্টগ্রামের ৫ হাজার ৫শ’ বাস মিনি-বাসের ভাড়া বৃদ্ধি করলেও বাস্তবতায় সারা দেশে প্রায় ৬০ হাজার বাস, মিনি-বাসে ১ লাখ ২০ হাজার হিউম্যান হলার, সাড়ে ৪ লক্ষ সিএিনজি চালিত অটো রিক্সা, ১০ লাখ নসিমন-করিমন, ১৬ লাখ প্যাডেল চালিত রিক্সার ভাড়া বেড়েছে। এতে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন সাধারণ যাত্রীরা।
বাংলাদেশ যাত্রী কল্যান সমিতির প্রধান উপদেষ্টা সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, সরকারের ভাড়া বাড়ানোর এখতিয়ার থাকলে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও যাত্রী হয়রানি বন্ধেও সরকারকেই কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
দায় স্বীকার করে পার পাওয়ার কোন সুযোগ নেই সরকারের। এতে অনিয়ম ও দুনীতি বৃদ্ধি পায়। বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের সকলের মতামত উপেক্ষা করে সরকার কোন প্রকার গণশুননী না করে একতরফা বিদ্যুৎ ও গ্যাসের মূল্যও বৃদ্ধি করেছে বলে দাবি করেন তিনি।
আবুল মকসুদ আরও বলেন, সরকার বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির অবৈধ আবদার রক্ষায় বিআরটিএ ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীসহ আশপাশের জেলায় চলাচলকারী বাস-মিনিবাসের ভাড়া যাত্রী কিলোমিটারে প্রতি ১০ পয়সা বৃদ্ধি করেছে। কিন্তু মালিকরা এর থেকেও কয়েকগুণ বেশি ভাড়া নির্ধারণ করে রীতিমত জোরপূর্বক যাত্রীদের নিকট থেকে আদায় করছে। এতে করে নগরীর নিন্ম আয়ের প্রতিটি নাগরিকের যাতায়ত ব্যায় ১ হাজার ৫শ’ টাকা থেকে আড়াই হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়ে গেছে।
প্রতিদিনই অতিরিক্ত ভাড়া আদায় কেন্দ্রিক যানবাহনগুলো পরিবহন শ্রমিকদের সঙ্গে যাত্রীদের তর্ক-বিতর্ক এমনকি হাতাহাতি, মারামারির ঘটনা ঘটছে দাবি করে যাত্রী কল্যান সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, যানবাহনে যাত্রী সেবার মানের লেশ মাত্র নেই।
গণশুনানীতে অংশগ্রহণ করেন, দুনীতি দমন কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ড. গোলাম রহমান, সিপিবির কেন্দ্রীয় নেতা রুহিন হোসেন প্রিন্স, যাত্রীকল্যান সমিতির চেয়ারম্যান শরীফ রফিকুজ্জামনসহ অন্যান্যরা।
এমএ/এআই