তেত্রিশতম বিসিএসের চূড়ান্ত ফল প্রকাশের সাত মাসেও নিয়োগ পাননি সুপারিশকৃত প্রার্থীরা। আর ৩৪তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের ১৭ মাসেও আসেনি নতুন পরীক্ষার ঘোষণা।ফলে চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে ক্ষোভ ও হতাশা।
কেউ কেউ বলছেন, চূড়ান্ত মনোনয়নের পরও অনাকাঙ্ক্ষিত এই দীর্ঘসূত্রতার কারণে তারা আর্থিকভাবে অনটনের মধ্যে রয়েছেন। কারো কারো শেষ হয়ে যাচ্ছে চাকরির বয়সও।
৩৩তম বিসিএসে উত্তীর্ণদের পদায়নের কাজ চলছে বলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় জানালেও কবে নাগাদ ৩৫তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হতে পারে সে বিষয়ে কিছুই বলছে না সরকারি কর্ম কমিশন- পিএসসি।
গত বছরের ২১ নভেম্বর আট হাজার ৫২৯ জনকে বিভিন্ন ক্যাডারে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করে ৩৩তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করে পিএসসি।
শিক্ষা ক্যাডারে নিয়োগের অপেক্ষায় থাকা আতিকুল ইসলাম বলেন, “কবে আমরা নিয়োগ পাব সে বিষয়েও কেউ কিছুই বলছে না। নিয়োগ নেই, বেতনও নেই।”
এর আগের বিসিএসগুলোতে উত্তীর্ণদের ফল প্রকাশের কয়েক মাসের মধ্যেই পদায়ন করা হয়েছিল।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী সম্প্রতি বলেন, ৩৩তম বিসিএসে উত্তীর্ণদের পদায়নের কাজ চলছে।
তবে কবে নাগাদ এদের পদায়ন করা হতে পারে সে বিষয়ে কিছু বলেননি তিনি।
অন্যদিকে ২০১৩ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি সর্বশেষ ৩৪তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে পিএসসি। ইতোমধ্যে এই বিসিএসের প্রিলিমিনারি ও লিখিত পরীক্ষা শেষ হয়েছে।
এর আগে ২০১২ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি ৩৩তম বিসিএস, ২০১১ সালের ১৯ অক্টোবর ৩২তম বিশেষ বিসিএস এবং ২০১১ সালের ২৬ জানুয়ারি ৩১তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে কমিশন।
গত তিনটি বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি (বিশেষ বিসিএস বাদে) জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসে প্রকাশ করা হয়েছিল।
সাধারণত বছরের শুরুতেই বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের রেওয়াজ থাকলেও চলতি বছরের ছয় মাস পার হতে চললেও বিজ্ঞপ্তি পাচ্ছে না চাকরিপ্রার্থীরা।
৩৫তম বিসিএসের প্রিলিমিনারিতে অংশ নিতে অনেক দিন থেকে কোচিংয়ের পাশাপাশি বাড়িতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন ইয়াসমিন সুলতানা।
কিন্তু জুন মাসের শেষেও নতুন বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি না পেয়ে ক্ষোভের সঙ্গে তিনি বলেন, “বয়স শেষের দিকে। ভাবছিলাম ৩৬তম বিসিএসেও অংশ নিতে পারব। এখন দেখছি তা হচ্ছে না।”
“বয়স শেষ হওয়ায় আমার কয়েকজন বন্ধু ৩৫তম বিসিএসে অংশ নিতে পারল না। ফেব্রুয়ারি মাসেও বিজ্ঞপ্তি হলে তারা পরীক্ষা দিতে পারত।”
পিএসসির চেয়ারম্যান দেশের বাইরে অবস্থান করায় কমিশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান (এক নম্বর সদস্য) সৈয়দ হাসিনুর রহমানের সঙ্গে বৃহস্পতিবার টেলিফোনে যোগাযোগ করা হলে তার একান্ত সচিব ফোন ধরেন।
টেলিফোনে অপেক্ষা করতে বলে একটু পরে হাসিনুরের পিএস বলেন “স্যার একটু ব্যস্ত আছেন।”
পিএসসির সদস্য মাইন উদ্দিন খন্দকারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “বিষয়টি চেয়ারম্যান ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক জানেন।”
পিএসসির পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (ক্যাডার) আ ই ম নেছার উদ্দিনের সঙ্গে একাধিকবার মোবাইলে যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিভিস করেননি। তার দপ্তরের কেউও ফোন ধরেননি।
গত ৩০ জানুয়ারি তৎকালীন জনপ্রশাসন সচিব আবদুস সোবহান সিকদার (বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর মূখ্য সচিব) জানিয়েছিলেন, ৩৫তম বিসিএসের জন্য বিভিন্ন ক্যাডারে এক হাজার ১৪৯টি পদ অনুমোদন দেয়া হয়েছে, শিগগিরই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে।
কেন ৩৫তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি দেয়া হচ্ছে না- এমন প্রশ্নে বর্তমান জনপ্রশাসন সচিব বলেন, “প্রিলিমিনারি পরীক্ষা পদ্ধতি পরিবর্তন সংক্রান্ত বিষয়ের কারণে সম্ভবত নতুন বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশে দেরি হচ্ছে।”
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব (বিধি) হাবিব মো. হালিমুজ্জামান গত মঙ্গলবার জানান, বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা ২০০ নম্বরে নেয়ার বিষয়ে সচিব কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে।
“তবে এ বিষয়ে পিএসসির মতামত পাওয়ার পরে আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং শেষে পিএসসির প্রিলিমিনারি পরীক্ষা সংক্রান্ত বিষয়টি চূড়ান্ত হবে।”
এর আগে পিএসসির সদস্য মাইন উদ্দিন খন্দকার বলেছিলেন, প্রিলিমিনারির নতুন পরীক্ষা পদ্ধতি রেখেই ৩৫তম বিসিএসর বিজ্ঞপ্তি দেয়া হতে পারে।
ঢাকা,২১ জুন (টাইমনিউজবিডি.কম)// এসএইচ





