সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে বগুড়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোশারফ হোসেনের লিখিত প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে বিকেল ৩টায় সংসদের বৈঠক শুরু হয়। এ সময় প্রশ্নোত্তর পর্বে চিকিৎসকের ঘাটতির বিষয়টি তুলে ধরেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

সংসদে মন্ত্রী জানান, দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসকের অনুমোদিত মোট পদ রয়েছে ৪১ হাজার ৮০৬টি। এর মধ্যে বর্তমানে কর্মরত চিকিৎসকের সংখ্যা ৩০ হাজার ৩১১ জন। ফলে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে ১১ হাজার ৪৯৫টি চিকিৎসক পদ শূন্য রয়েছে।

তবে দেশের মোট চিকিৎসকের প্রয়োজনীয়তা এবং সরকারি স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় কর্মরত চিকিৎসকের সংখ্যা এক নয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

জনসংখ্যার অনুপাতে চিকিৎসকের প্রয়োজন নির্ধারণে আন্তর্জাতিক ও জাতীয় স্বাস্থ্য জনবল মানদণ্ড বিবেচনা করা হয় বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

তিনি বলেন, সরকারি অর্থায়নে ২০২৬ সালে পরিচালিত একটি গবেষণায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ন্যূনতম মানদণ্ড অনুসরণ করা হয়েছে। প্রতি এক হাজার জনসংখ্যার বিপরীতে শূন্য দশমিক ৫০ জন চিকিৎসক ধরে হিসাব করলে ২০২৬ সালে বাংলাদেশে প্রায় ৮৮ হাজার ৯০৯ জন চিকিৎসকের প্রয়োজন হবে।

চিকিৎসকের ঘাটতি পূরণে সরকার বিভিন্ন নিয়োগ কার্যক্রম হাতে নিয়েছে বলে সংসদে জানান মন্ত্রী।

তিনি বলেন, ৪৪তম ও ৪৮তম বিশেষ বিসিএসের মাধ্যমে ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ৪৫তম, ৪৬তম, ৪৭তম ও ৫০তম বিসিএসের মাধ্যমে সহকারী সার্জন নিয়োগের কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।

সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের শূন্য পদগুলো পর্যায়ক্রমে পূরণ করা হবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, জনগণের প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন পদ সৃষ্টির উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।

এর মাধ্যমে দেশের মানুষের জন্য সহজলভ্য, মানসম্মত ও জনবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।

এস