জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান বৃহস্পতিবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে গণমাধ্যমের কাছে যে বক্তব্য দিয়েছেন তার প্রতিবাদ জানিয়েছে পুলিশ।

তিনি বৃহস্পতিবার দুপুরে হিযবুত তাহরীর উলাইয়াহ'র সদস্য মোঃ নাফিস সালাম ওরফে উদয়কে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দেখতে যান।

সেখানে তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের কাছে পুলিশ বাহিনী ও পুলিশ বাহিনীর কার্যক্রম সম্পর্কে বলেন, "পুলিশের ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ ও বাড়াবাড়ি সাংঘাতিকভাবে বেড়ে গেছে। পুলিশের আচরণ দেখে মনে হচ্ছে যেন নাগরিকরা দাসে রূপান্তরিত হয়ে গেছে এবং তারা সবাই দাস মালিক এবং তাদের ভিতরে কোন রকম চেইন অব কমান্ড কাজ করছে বলে মনে হয় না। অভ্যন্তরীণ বিষয় এখানে পুলিশ বর্বরোচিত আচরণ করছে।"

ড. মিজানুর রহমানের এমন বক্তব্যের প্রেক্ষিতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ ইমেইলে পাঠানো এক প্রেস বার্তায় প্রতিবাদ জানিয়েছে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া এন্ড পাবলিক রিলেশনস) এর বরাত দিয়ে পাঠানো ওই বার্তায় বলা হয়, ৬ নভেম্বর দেশের কয়েকটি ইলেক্ট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় প্রকাশিত ও প্রচারিত সংবাদ সম্পর্কে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের দৃষ্টি আকর্ষিত হয়েছে।

এখানে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন এর চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান হিযবুত তাহরীর উলাই’য়াহ বাংলাদেশ এর সক্রিয় সদস্য মোঃ নাফিস সালাম ওরফে উদয়কে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দেখতে গিয়ে সাংবাদিকদের কাছে পুলিশ বাহিনী ও পুলিশ বাহিনীর কার্যক্রম সম্পর্কে বিভিন্ন ধরণের নেতিবাচক মন্তব্য করেছেন।

তিনি তার বক্তব্যে আরও বলেন, “আমরা সাংঘাতিকভাবে শংকিত ও উদ্বেগ প্রকাশ করি যখন কোন একটি নির্দিষ্ট জেলা থেকে যখন কেউ দায়িত্বে থাকে, তাদের ধারণার সৃষ্টি হয় তারা যেন সব কিছুর ঊর্ধ্বে, আইন তাদের স্পর্শ করতে পারবে না।"

এমন বক্তব্যের প্রতিবাদে ডিএমপি প্রেসবার্তায় উল্লেখ করেছে, গত ১৭ অক্টোবর ১টা ৫০ মিনিটে মোহাম্মদপুর ইকবাল রোড বায়তুস সালাম মসজিদ হতে জুম্মার নামাজ শেষে মুসল্লিগণ চলে যাবার সময় মসজিদের উত্তর গেটের নিকট ২০/২৫ জন সমবেত হয়ে বাংলাদেশে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন “হিযবুত তাহরীর” এর ব্যানার নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে বেআইনি সমাবেশসহ লিফলেট বিতরণ করে।

কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যগণ তাদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করলে তারা সংঘবদ্ধ হয়ে পুলিশের উপর আক্রমণ করে এবং ইট নিক্ষেপ করে পুলিশ সদস্যদের আহত করে। ফলে পুলিশ আত্মরক্ষা ও সরকারি সম্পত্তি রক্ষার্থে শটগানের গুলি ছুঁড়তে বাধ্য হয়। এতে হিযবুত তাহরীরের সক্রিয় সদস্য মোঃ নাফিস আহত হন এবং পুলিশ তাকে আটক করে। এ সময় পুলিশ সদস্যগণ নাফিসের হেফাজত হতে নিষিদ্ধ সংগঠন হিযবুত তাহরীর উলাই’য়াহ বাংলাদেশ এর বিভিন্ন ধরণের লেখা সম্বলিত ৬০টি লিফলেট উদ্ধার করে। ২৫টি লিফলেটে বলা হয়, “হে মুসলিমগণ! হাসিনা-খালেদা শাসনের অধীনে মৃত্যুবরণ হচ্ছে জাহেলিয়াতের মৃত্যুবরণ এবং এই কুফর শাসনব্যবস্থাকে অপসারণ করা ফরয দায়িত্ব” জব্দ করা হয়। আহত মোঃ নাফিসকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়।

এ ঘটনায় মোঃ নাফিস এর বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানায় দণ্ডবিধি ও সন্ত্রাস বিরোধী আইনে দু’টি মামলা রুজু করা হয়। ইতোপূর্বে গত ০৩/০৫/২০১০ তারিখ নাফিস সালাম ওরফে উদয়কে হিযবুত তাহরীর এর আপত্তিকর লেখা সম্বলিত লিফলেটসহ আদাবর থানা পুলিশ গ্রেফতার করে।

এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাস বিরোধী আইনে একটি মামলা রুজু করে তদন্ত শেষে বিজ্ঞ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে।

ডিএমপি বলছে, হিযবুত তাহরীর একটি নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন। নাফিস সালাম এই সংগঠনের তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক পরামর্শক।

ড. মিজানুর রহমান বাংলাদেশ সরকারের একটি সাংবিধানিক গুরুত্বপূর্ণ পদে কর্মরত। তিনি এ পদে কর্মরত থেকে একজন আসামির সঙ্গে আদালতের অনুমতি ব্যতীত হাসপাতালে দেখা করতে গেছেন। এতে আইন এবং শিষ্টাচার লঙ্ঘিত হয়েছে। যা ভবিষ্যতে অন্যান্য নাগরিকদের মধ্যে আইন লংঘনের প্রবণতা সৃষ্টি করতে পারে। তদুপরি যাচাই বাছাই ব্যতীত নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি সংগঠনের আসামির বক্তব্যের ভিত্তিতে একতরফাভাবে বক্তব্য প্রদান জঙ্গিবাদকে উৎসাহিত করতে পারে।  এর মাধ্যমে তদন্ত কাজ বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

তিনি হাসপাতালে গিয়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের নেতার সঙ্গে দেখা করে সরকারের জঙ্গিবাদ বিরোধী কার্যক্রমের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে তিনি রাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা পুলিশ বাহিনীর চেইন অব কমান্ড সম্পর্কে অনভিপ্রেত মন্তব্য করেছেন। যা পুলিশ বাহিনীর মনোবল ভেঙ্গে দিতে পারে এবং ফলে জনশৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এ ছাড়াও এ বক্তব্য পুলিশ বাহিনীর মধ্যে শৃঙ্খলা বিনষ্টের কারণ হতে পারে।

গত বছর ডিসেম্বর মাসে আমরা একটি নিদিষ্ট জেলাকে কটাক্ষ করে বক্তব্য প্রদান করতে দেখেছিলাম। ড. মিজানুর রহমানের নিকট থেকে এই পর্যায়ে একই সুরে একটি জেলাকে কটাক্ষ করে একই প্রতিধ্বনি শুনতে পাচ্ছি। তার বক্তব্যে পুরো জাতি স্তম্ভিত এবং আমরা হতাশাগ্রস্ত।

ড. মিজানুর রহমান এর বক্তব্যে বর্তমান সরকারের জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে অবস্থানের বিষয়ে আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে ভুল ইঙ্গিত দিতে পারে। একটি সাংবিধানিক পদে থেকে পুলিশ বাহিনীর মনোবল ভেঙ্গে দিয়ে তিনি কি অর্জন করতে চেয়েছেন তা বোধগম্য নয়। আমরা দায়িত্বশীল সকল ব্যক্তিকে এ ধরণের ঢালাও মন্তব্য পরিহার করার জন্য বিনীত অনুরোধ করছি।

জেইউ, এমএ