সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের আন্দার মানিক খালে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) ৮ এর সঙ্গে বনদস্যু বাহিনীর গোলাগুলি হয়েছে। এ ঘটনায় দুজনকে আটক করা হয়েছে। এ ছাড়াও বেশ কিছু অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার ভোর থেকে ওই এলাকায় গোলাগুলি শুরু হয়। আটককৃতরা হলেন জলদস্যু সুমন বাহিনীর সেকেন্ড ইন কমান্ড মিন্টু গাজী ও আবু ঢালী। তবে তাদের বিস্তারিত পরিচয় এখনো জানা যায়নি।
র্যাব-৮ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল আনোয়ার উজ্জামান সকালে বলেন, বঙ্গোপসাগরে বর্তমানে ইলিশ শিকারের মৌসুম চলছে। সম্প্রতি সুন্দরবন সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরের বিভিন্ন এলাকায় বনদস্যুরা হানা দিয়ে অস্ত্রের মুখে জেলেদের অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় করছিল। সম্প্রতি বনদস্যুদের দৌরাত্ম বেড়ে যাওয়ায় র্যাব অভিযান শুরু করে।
র্যাব-৮ এর উপ অধিনায়ক মেজর আদনান কবীর জানান, গেলো কয়েকদিন ধরে সুন্দরবনে জেলে অপহরণসহ দস্যুদের উৎপাত বেড়ে যাওয়ায় র্যাবের টহলদল ভোর থেকে অভিযান শুরু করে। পরে বনদস্যুরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এতে র্যাবও পাল্টা গুলি ছোড়ে। তিনি আরো জানান, সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে পরে বিস্তারিত জানানো হবে।
এর আগে ১৫ আগস্ট মঙ্গলবার সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের হরিণটানা খাল এলাকা থেকে চার জেলেকে উদ্ধার করা হয়। এছাড়া ঘটনাস্থল থেকে বনদস্যুদের ব্যবহৃত ইঞ্জিনচালিত একটি বোর্ড ও ৯ রাউন্ড গুলি জব্দ করা হয়।
জেলেদের অভিযোগের ভিত্তিতে র্যাব বৃহস্পতিবার সকাল সোয়া ৮টার দিকে সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের আন্ধারমানিক খাল এলাকায় পৌঁছলে একদল বনদস্যু র্যাব সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এ সময় র্যাবও পাল্টাগুলি চালায়। বনদস্যুদের সঙ্গে র্যাবের থেমে থেমে প্রায় ৪৫ মিনিট গোলাগুলি চলার এক পর্যায়ে বনদস্যুরা বনের গহীনে পালানোর চেষ্টা করলে র্যাব সদস্যরা ধাওয়া করে দুজনকে ধরে ফেলে। এ সময় তাদের কাছ থেকে বেশ কয়েকটি অস্ত্র ও গুলি পাওয়া উদ্ধার করা হয়। তারা বনদস্যু সুমন বাহিনীর সদস্য বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে। তবে কি ধরনের কয়টি অস্ত্র ও গুলি রয়েছে তাৎক্ষনিকভাবে জানাতে পারেননি ওই র্যাব কর্মকর্তা। সুমন নামে এক ব্যক্তি ১০-১২ জন সদস্য নিয়ে নিজ নামে বাহিনী গঠন করে বঙ্গোপসাগর ও সুন্দরবনে জেলে, বাওয়ালী ও মৌয়ালদের মুক্তিপণের দাবিতে অপহরণ করে আসছে।
এএইচ





