উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে কুড়িগ্রামের ব্রহ্মপুত্র ও ধরলার পানি আবারও বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। এতে করে আরও দুর্ভোগে পড়েছেন বানভাসি মানুষ।
গত ১১ দিন ধরে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার চর পার্বতীপুর, ভগবতিপুর, কালির আলগা, চর রসুলপুরসহ নয় উপজেলার ৫৩ ইউনিয়নের দুই শতাধিক চর ও দ্বীপচর পানিতে তলিয়ে আছে। পানিবন্দি জীবনযাপন করছেন দুই লক্ষাধিক মানুষ। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন নিম্নআয়ের শ্রমজীবী মানুষজন। সরকারিভাবে ত্রাণ তৎপরতা শুরু হলেও দুর্গত এলাকার অধিকাংশ মানুষের ভাগ্যে তা জুটছে না। খাদ্য সংকটের পাশাপাশি দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকট।
সরকারিভাবে বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র না খোলায় বানভাসি পরিবারগুলো উঁচু বাঁধ, বাঁশের মাচায় আশ্রয় নিয়ে অবর্ণনীয় কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। রাস্তাঘাট তলিয়ে থাকায় এ সব এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে।
বন্যায় ৩০ হাজার হেক্টর জমির রোপা আমন ও সবজি ক্ষেত পানিতে তলিয়ে থাকায় সম্পূর্ণরূপে নষ্ট হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।
জেলা প্রশাসক এবিএম আজাদ জানান, বন্যার্তদের জন্য এ পর্যন্ত ৫০০ টন চাল ও নয় লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ২০০ টন চাল ও চার লাখ টাকা বিতরণ করা হয়েছে।
স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-প্রকৌশলী সবিবুর রহমান জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় চিলমারী পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্রের পানি তিন সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার এক সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নুন খাওয়া পয়েন্টে তিন সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে ব্রহ্মপুত্রের পানি। অন্যদিকে সেতু পয়েন্টে ধরলা নদীর পানি ১১ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। কাউনিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি ১২ সেন্টিমিটার হ্রাস পেয়েছে।
ঢাকা, ২৫ আগস্ট, টাইমনিউজবিডি.কম, জেআই





