প্রতি বছর পশু খাদ্যের দাম বাড়লেও প্রায় এক যুগ ধরে কোন পরিবর্তন আসেনি খামারিদের উৎপাদিত দুধের বিক্রি মূল্যে।খামারিরা প্রতি কেজি দুধ ২৫-৪০ টাকায় বিক্রি করলেও গ্রাহক পর্যায়ে এসে তার মূল্য দাঁড়াচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা। কোন কোন ক্ষেত্রে গ্রাহক পর্যায়ে ১০০ টাকায়ও তা বিক্রি হচ্ছে।বিক্রি নীতিমালা না থাকায় একদিকে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে খামারিরা অন্যদিকে লাভবান হচ্ছে মধ্যস্বত্বভোগীরা। এখনই দুধের ন্যায্য মূল্য নির্ধারণ না করলে খামার গুটিয়ে ফেলতে হবে বলে অশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা।
শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে “জাতীয় দুগ্ধ ও গো-মাংস শিল্প রক্ষা”র দাবিতে ‘বাংলাদেশ ডেইরি ফার্ম এসোসিয়েশন’ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এমন তথ্য উঠে আসে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অডিয়েন্স থেকে দাঁড়িয়ে এক খামারি বলেন, আমার এলাকা ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে, সেখানে ব্যাবসায়ীরা আমাদের কাছ থেকে ৫ পোয়ায় কেজি হিসেবে দুধ কিনে নেয়, দাম দেয় ৩৩ টাকা। তিনি বলেন, এ হিসেব গত দশ বছর থেকে। অথচ এই সময়ে গো-খাদ্যের মূল্য বেড়েছে তিনগুণ। আমি কিভাবে ব্যবসা করবো?
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন, বাংলাদেশ ডেইরি ফার্মারস এসোসিয়েশন এর সভাপতি মো: ইমরান হোসেন। তিনি বলেন, এখন গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৫'শ থেকে ৫৩০ টাকায়। যে কারণে মাংসের চাহিদা আগের তুলনায় অনেক কমে গেছে। খামারিদের গরু বিক্রি কমে যাচ্ছে। যাতে করে এই শিল্পটি হুমকির মুখে পড়ছে। অন্যদিকে বিদেশ থেকে নিম্ন মানের গরু আমদানি করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, একটি সিন্ডিকেট প্রতি বছর বছর গো-খাদ্যের দাম বাড়াচ্ছে। খরচ বেড়ে যাওয়ায় আমাদের খামারিরা কম দামে গরু বিক্রি করতে পারছেনা। ফলে মাংসের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। অন্যদিকে কম দামে বিদেশ থেকে গরু আসায় মাংস ব্যবসায়ীরা দেশীয় খামার থেকে গরু কিনতে অনিহা প্রকাশ করছে। ফলে একটি শিল্প আস্তে আস্তে ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, এ শিল্পটিকে বাঁচাতে গরু আমদানী বন্ধ ও পশু খাদ্যের দাম কমানো এখন সময়ের দাবি।
সংবাদ সম্মেলনে গো ও দুগ্ধ খামার শিল্প রক্ষায় কিছু দাবি উপস্থাপন করে এসোসিয়েশান, দাবি গুলো হচ্ছে:
বিদেশ থেকে মাংস আমদানীর উদ্যোগ বন্ধ করা।
গুড়া দুধ আমদানী কমিয়ে দেশে গুড়া দুধ তৈরী নিশ্চিত করা।
দুধের ন্যায্য মূল্য ও বাজারজাতকরণ নিশ্চিত করা।
দুগ্ধ ও মাংস শিল্পকে কৃষি বিদ্যুতের আওতায় আনা।
গো-খাদ্যের মূল্য কমানো।
দুগ্ধ শিল্পে খামারিদের ভুর্তকি প্রদান এবং সুদমুক্ত দীর্ঘমেয়াদী ঋণ প্রদান করা।
প্রয়োজন অনুযায়ী পশু হাসপাতাল গুলোতে ডাক্তার নিয়েগ। দুধ এবং মাংস শিল্প রক্ষায় উন্নত জাতের গরু উৎপাদন।
তারা উল্লেখ করেন, এসকল দাবি পূরণে সরকার এগিয়ে আসলে আল্প সময়ের মধ্যে গরুর মাংসের দাম কমানো সম্ভব হবে এবং খামারিরা বিপর্যয় থেকে রক্ষা পাবে।
সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন, এসোসিয়েশনের সহ-সভাতি মালিক উমর, আলী আজম রহমান শীবলু, সাধারণ সম্পাদক শাহ ইমরান, কার্য নির্বাহী পরিষদ সদস্য ফাহীম ইবনে জাহাঙ্গীর।





